ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আগুনের ঘটনায় দেশের ওষুধশিল্প খাতের শীর্ষ ৪৫টি কোম্পানির প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের কাঁচামাল পুড়ে গেছে। এতে ওষুধশিল্পের ওপর চার হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থনৈতিক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ ওষুধশিল্প সমিতি।
মঙ্গলবার ঢাকার গুলশানে সমিতির অফিসে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে এসব কথা বলেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
তিনি বলেন, ‘দেশের ওষুধশিল্পের জন্যে দামি এবং গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল আমরা বিমানে করে আনি। সেসব কাঁচামাল পুড়ে যাওয়ায় আমাদের জন্য বড় ঝুঁকি এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে।’
তবে এই ক্ষতির কারণে সহসাই ওষুধের দাম বাড়ছে না জানিয়ে সমিতির কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মাদ হালিমুজ্জামান বলেন, ‘আগামী এক মাসের ওষুধ তৈরির জন্য উপকরণ আমাদের কাছে প্রস্তুত আছে। আমাদের সাপ্লাই চেইন যদি বাধাগ্রস্থ না হয় তাহলে ওষুধের দাম বাড়বে না।’
‘ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ভোক্তাদের কথা ভেবে সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখতে সরকারকে বলব, যথাযথ উদ্যোগ নিতে।’
এসময় সমিতির পক্ষ থেকে কিছু দাবি তুলে ধরা হয়। যার মধ্যে রয়েছে–সাপ্লাই চেইন ঠিক রাখা, ক্ষতির পরিমাণ কমানো ও ভবিষ্যতে যাতে ওষুধের সংকট না হয় সেজন্য আগুনে পুড়ে যাওয়া যেসব পণ্যের জন্যে শুল্ক, ডিউটি ট্যাক্স ও ভ্যাট দেওয়া হয়েছে সেসব অর্থ আমদানিকারকদের ফেরত দেওয়া; পুড়ে যাওয়া পণ্যের এলসি সংক্রান্ত ব্যাংক চার্জ ও সুদ মওকুফ, ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল পুনরায় আমদানির ক্ষেত্রে ব্যাংকসমূহ কোনো মার্জিন, ব্যাংক চার্জসমূহ বা সুদ দাবি না করা এবং মালামালে সহজ শর্তে এলসি ওপেন ও এলসি রিলিজের সুযোগ দেওয়া।
পুড়ে যাওয়া মালামালের বিল অফ এন্ট্রির বিপরীতে ধার্য করা চার্জ মওকুফ; গোডাউন চার্জ, ড্যামারেজ চার্জ, ইম্পোর্ট হ্যান্ডেলিং ফি, ডেনজারাস গুডস হ্যান্ডেলিং ফি এবং সংশ্লিষ্ট ভ্যাটকে মওকুফ; অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিন্তু ‘বিল অব এন্ট্রি’ ছাড়া এলসির বিপরীতে পেমেন্ট রিলিজ করার সুযোগ; ক্ষতিগ্রস্ত মালামালের ‘বিল অব এন্ট্রি ওভারডিউ’ দেখিয়ে ‘বিন লক’ না করা; ক্ষতিগ্রস্ত মালামালের ‘বিল অব এন্ট্রি’ এর বিপরীতে মালামালের মাধ্যমে উৎপাদিত ফাইনাল প্রোডাক্টের ধার্য করা ভ্যাট মওকুফের দাবিও জানানো হয়েছে।
এছাড়া নারকোটিকস বিভাগের অনুমতি সাপেক্ষে আমদানি করা পণ্যের আগের অনুমোদনের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আবার আমদানির অনুমতি নিশ্চিত; শুক্রবার ও শনিবারে স্বল্প পরিসরে হলেও কাস্টম হাউজের কার্যক্রম সক্রিয় রাখা; যেসব পণ্যের জন্য কোল্ডচেইন মেইনটেইন করতে হয় সেসব পণ্য দ্রুততম সময়ে রিলিজের ব্যবস্থা করা; কার্গো ভিলেজে যদি কোনো অক্ষত উপকরণ পাওয়া যায় সেটির নিশ্চয়তা সংশ্লিষ্ট কোম্পানিকে জানানো; যেসব এয়ারলাইন্স হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো নিয়ে আসে তাদের জন্য দ্রুত কার্যক্রম শুরু করার জন্যে সবুজ সংকেত প্রদান এবং ডিজিডিএ, নারকোটিকস, কাস্টমস, এনবিআর ও বিমান কর্তৃপক্ষসহ অন্যান্য রেগুলেটরি বোর্ডকে নিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি যৌক্তিক সভা ডেকে ওষুধ কোম্পানিগুলোর সমস্যা সমাধানে সুষ্ঠু পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানানো হয়।
সমিতি বলছে, এসব দাবি বাস্তবায়ন করা হলে দ্রুতই এ সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।


