দেশীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক বাপ্পারাজের জন্মদিন বুধবার (১১ মার্চ)। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সিনেমা থেকে অনেকটাই দূরে থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে আলোচনা থেমে নেই। পুরোনো সিনেমার দৃশ্য, সংলাপ কিংবা গান ঘিরে মাঝেমধ্যেই নতুন করে আলোচনায় আসেন নব্বই দশকের এই জনপ্রিয় অভিনেতা।
একসময়ের এই ‘ট্র্যাজেডি নায়ক’ বাপ্পারাজ ঢাকাই সিনেমার কিংবদন্তি নায়করাজ রাজ্জাকের ছেলে। আশি ও নব্বইয়ের দশকে তিনি ঢালিউডে অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে ত্রিভুজ প্রেমের ট্র্যাজেডি গল্পে তার অভিনয় দর্শকদের মনে আলাদা জায়গা করে নেয়।
তার অভিনীত সিনেমাগুলোর গানের মধ্যে ‘তুমি বন্ধু আমার চির সুখে থেকো’, ‘আমি তো একদিন চলে যাব’, ‘তোমরা সবাই থাকো সুখে’— এমন অনেক বিরহধর্মী গান আজও দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। এসব গানে বাপ্পারাজের ঠোঁট মেলানো আবেগঘন অভিনয় দর্শকদের মনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। কষ্টের মাঝেও একফালি হাসি নিয়ে তার উপস্থিতি সেই সময়ের দর্শকদের আবেগী করে তুলত।
ক্যারিয়ারজুড়ে বাপ্পারাজ মূলত রোমান্টিক ও ত্রিভুজ প্রেমের গল্পে অভিনয় করেছেন। বেশিরভাগ সিনেমাতেই তাকে দেখা যেত আত্মত্যাগী প্রেমিকের ভূমিকায়। নিজের ভালোবাসার মানুষকে বন্ধুর হাতে তুলে দিয়ে সিনেমার শেষ দৃশ্যকে বেদনাময় করে তোলাই যেন ছিল তার চরিত্রের বৈশিষ্ট্য। এ কারণেই দর্শকরা তাকে কখনো ‘ছ্যাকা খাওয়া নায়ক’, কখনো ‘ব্যর্থ প্রেমের নায়ক’, আবার কেউ কেউ ‘মিস্টার স্যাক্রিফাইস’ বলেও ডাকতেন। এমন চরিত্রগুলোতেই নব্বইয়ের দশকে তিনি আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তা পান। অনেক দর্শকই মজা করে বলতেন, কোনো সিনেমায় বাপ্পারাজ থাকলে শেষ দৃশ্যে তার করুণ পরিণতি প্রায় নিশ্চিত।
বাপ্পারাজের আসল নাম রেজাউল করিম। বাবা রাজ্জাকের হাত ধরেই ১৯৮৬ সালে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করেন তিনি। রাজ্জাক পরিচালিত ‘চাঁপাডাঙ্গার বউ’ সিনেমার মাধ্যমে ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে তার। এরপর তিন দশকের বেশি সময় ধরে শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন এই অভিনেতা।
তার অভিনীত জনপ্রিয় ত্রিভুজ প্রেমের সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘প্রেমের সমাধি’, ‘প্রেমগীত’, ‘হারানো প্রেম’, ‘ভুলোনা আমায়’, ‘বুক ভরা ভালোবাসা’ ও ‘ভালোবাসা কারে কয়’। পাশাপাশি ‘বাবা কেন চাকর’, ‘সন্তান যখন শত্রু’, ‘সৎ ভাই’ এবং ‘জবাব চাই’সহ আরও বেশ কিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করে দর্শকের মন জয় করেছেন তিনি।
অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনাতেও হাতেখড়ি হয়েছে বাপ্পারাজের। তিনি ‘কাছের মানুষ রাতের মানুষ’ ও ‘একজন লেখক’ নামের কয়েকটি নাটক পরিচালনা করেছেন। এছাড়া ‘কার্তুজ’ নামে একটি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করেছেন তিনি।
সবশেষ বড় পর্দায় তাকে দেখা যায় ‘পোড়ামন ২’ সিনেমায়। সেখানে নায়ক সিয়ামের বড় ভাইয়ের চরিত্রে অভিনয় করে আবারও দর্শকের প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন একসময়ের এই জনপ্রিয় অভিনেতা। বর্তমানে ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন তিনি।


