ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশটির রাজনীতিবিদরা আবারও বাংলাদেশবিরোধী বক্তৃতা জোরদার করেছেন। ‘টাইমস অব বাংলাদেশ’-এর সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কৌশলটি আসলে দুই দেশের বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে নয়, বরং হিন্দু ভোট নিজেদের দিকে টানার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বড় নেতারা পশ্চিমবঙ্গের এপ্রিল-মে মাসের নির্বাচনের আগে তাদের প্রচারণাকে আরও জোরালো করেছেন। বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, পশ্চিমবঙ্গ নাকি ‘বৃহত্তর বাংলাদেশ’ হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। তিনি ভোটারদের উদ্দেশ্যে ‘বাংলা বাঁচানোর’ ডাক দিয়েছেন। তার এই মন্তব্য বাংলাদেশের কূটনীতিক ও পর্যবেক্ষকদের মধ্যে বেশ সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। তারা মনে করছেন, এই ধরণের…
Author: শেখ শাহারিয়ার জামান
আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের মধ্যে সবসময়ই বড় ধরনের মতপার্থক্য ছিল। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতারা নিয়মিত ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূতের ড্রয়িংরুমে বসে নানা রাজনৈতিক দফারফা করতেন। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট ২০১৮ সালে তার বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে এই প্রথার কথা সরাসরি স্বীকার করেছিলেন। একে একটি ‘ভুল প্রথা’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ আসলে কারা শাসন করবে–তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও দিল্লির মধ্যে দীর্ঘদিনের মতপার্থক্য ও সূক্ষ্ম ক্ষমতার লড়াই রয়েছে। এই প্রবণতা এখনো চলছে বলে মনে হয়। অনেক বাংলাদেশিই বিশ্বাস করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত উভয় দেশই…
দেড় বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে হাজির হতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। শুক্রবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তার। ‘বাংলাদেশ অ্যাট দ্য ক্রসরোডস’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানটির আয়োজন করছে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব প্রেস ক্লাবস। অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে শেখ হাসিনাকে ‘বাংলাদেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিচয় নিয়ে ঢাকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলের অনেকেই ভ্রু কুঁচকেছেন। এই ঘোষণার পর ভারতের কর্তৃপক্ষ নীরবে কোনো ‘নির্বাসিত সরকার’ গঠনের প্রক্রিয়াকে প্রশ্রয় দিচ্ছে কি না—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক জল্পনা। আগের মন্ত্রিসভা বিলুপ্ত হওয়া সত্ত্বেও একই আমন্ত্রণপত্রে মো.…
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ১৩তম সংসদ নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে বাংলাদেশে আসছেন বিপুলসংখ্যক বিদেশি পর্যবেক্ষক। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) আহ্বানের বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের নিবন্ধনের সময়সীমা ১৭ জানুয়ারি শেষ হয়েছে। এই আহ্বানের পাশাপাশি আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০টি দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবং সাতটি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইসি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি দেশ ও সংস্থা তাদের অংশগ্রহণের কথা নিশ্চিত করেছে। নির্বাচন কমিশন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশন’ পাঠানোর বিষয়ে চুক্তি সই করেছে। এই মিশনটিই হবে এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক দল। সরকারি সূত্র মতে, মোট বিদেশি…
আগামী ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যে নতুন সরকার গঠিত হবে, তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত নয়াদিল্লি, গত কয়েকদিনে ভারতের নানা কর্মকাণ্ডে এখন সেই বার্তাই স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপি এবং জিয়া পরিবারের প্রতি ভারতের বিশেষ আগ্রহ প্রকাশের মাধ্যমে এই ইঙ্গিতটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের প্রতি শোক ও শ্রদ্ধা জানিয়ে নয়াদিল্লি এটিই বোঝাতে চাইছে যে, তারা বাংলাদেশে কেবল আওয়ামী লীগের সঙ্গেই নয়, বরং সকল প্রধান রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। এই পদক্ষেপকে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের একটি প্রচেষ্টা হিসেবেও…
টালমাটাল পরিস্থিতিতে পড়েছে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক। দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা কমার কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না, পরিস্থিতি শান্ত করতে দুই সরকারেরই দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগও চোখে পড়ছে না। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, দ্রুত সংশোধনমূলক পদক্ষেপ না নিলে এই অচলাবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। মঙ্গলবার ভারতের নয়াদিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কূটনৈতিক এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে একটি হিন্দু সংগঠনের কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুতুল পোড়ান। এসময় অন্তর্বর্তী সরকারকে হুঁশিয়ার করে নানা স্লোগানও দেন তারা। এর আগে সোমবার ডানপন্থী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) বিক্ষোভের ডাক দেয়। মুম্বাইয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতা…
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর এখন আবার সামনে চলে এসেছে ভারত থেকে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টি। দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তি থাকলেও বিষয়টি নির্ভর করছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর। শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের সরকারি তত্ত্বাবধানে দিল্লিতে বসবাস করছেন। আর একই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল কলকাতার কোথাও থাকেন বলে ধারণা করা হয়। তাদের অনুপস্থিতিতে বিচার কাজ যথানিয়মে চলেছে, সোমবার রায়ও দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ের অনেক আগে গতবছর ডিসেম্বরে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য দিল্লির কাছে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ভারত সরকার এখন পর্যন্ত সেই চিঠির কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব দেয়নি। বরং দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা একাধিকবার…
গত বছরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতা হারানোর পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান ভারতে। শুরুতে তাকে ‘কিছুদিনের জন্য’ আশ্রয় দিতে রাজি হয়েছিল দিল্লি, ১৫ মাস পরও এখনও সেখানেই আছেন হাসিনা। তখন প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছিল, তার পরবর্তী আশ্রয়স্থল হতে পারে লন্ডন বা অন্য কোনো দেশ। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। বিশেষজ্ঞরা এখন বলছেন, ওই সময়ে তার স্বল্পমেয়াদি অবস্থানের যে বার্তা প্রচার করা হয়েছিল, তা আসলে একটি আড়াল। দিল্লিতে সর্বদলীয় এক বৈঠকেও তার অবস্থান স্বীকৃতি পেয়েছিল। ভারতের কাছে শেখ হাসিনা দরকষাকষির এক মূল্যবান হাতিয়ার, যাকে ঘিরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক নানা হিসাব-নিকাশ চালানো যায়। সাবেক রাষ্ট্রদূত মো. আবদুল হাই…
সাধারণত বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলে তা নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর গভীর আগ্রহ দেখা যায়। বিবৃতি, বক্তব্য দিয়ে তারা নির্বাচনের, ভোটাধিকার পরিস্থিতির নানা খবরাখবর নেন; নিজেদের মত প্রকাশ করেন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পশ্চিমা কূটনীতিকদের আচরণ ‘অস্বাভাবিক রকম নীরব’ বলেই মনে হচ্ছে। গত তিনটি ‘বিতর্কিত’ নির্বাচনে, পশ্চিমা কূটনীতিকরা বারবারই নির্বাচনকে ‘অবাধ, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক’ করার আহ্বান জানাচ্ছিলেন। তারাই এবার প্রকাশ্য বিবৃতি দেওয়া থেকে বিরত থাকছেন। এর বদলে বাংলাদেশের ভবিষ্যত শাসনে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে পারে এমন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে নীরবে সম্পৃক্ত হওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বাংলাদেশে তাদের অবস্থান কী হবে সেটি নির্ধারণের আগে পশ্চিমা দেশগুলো…

