পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ ও সাংবাদিকদের নিয়ে করা অশালীন মন্তব্যের বিষয়টি সরকার আমলে নিয়েছে বলে মনে করছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি। সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকেও এনিয়ে কথা বলা হয়েছে। সরকারের চূড়ান্ত অবস্থান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে ফেরার পর বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিও (ডিআরইউ) সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায়ের বক্তব্যে আশ্বস্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে ডিআরইউ ইতোমধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে। কিন্তু আইজিপি তার বক্তব্য প্রত্যাহার করেননি। যা গোটা সাংবাদিক সমাজের জন্য উদ্বেগের। প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হয়ে তিনি সাংবাদিকদের নিয়ে ওই মন্তব্য করতে পারেন না। সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা, সম্মান ও স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রশ্নে ডিআরইউ আপসহীন। ডিআরইউ আশা করছে সরকার এই আইজিপির ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
ডিআরইউ নেতারা আশা প্রকাশ করেন, সাংবাদিকদের নিয়ে আইজিপির ঢালাও ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের সঙ্গে সরকার একমত নয়। তারা বলেন, পুলিশের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে আরও সংযত, দায়িত্বশীল ও পেশাদার হওয়া প্রত্যাশিত। দায়িত্বশীল পদে থেকে কোনো পেশাজীবী গোষ্ঠী সম্পর্কে যাচাই-বাছাই ছাড়া ঢালাও মন্তব্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তারা বলেন, একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির বক্তব্যের সঙ্গে রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তির বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত। কোনো ব্যক্তির অসংযত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের কারণে সরকারকে দেশে-বিদেশে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি শ্রদ্ধা এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
ডিআরইউ নেতারা আরও বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধের চিত্র তুলে ধরে জনস্বার্থে দায়িত্ব পালন করেন। সংবাদ প্রকাশের কারণে সাংবাদিকদের একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীকে ঢালাওভাবে অভিযুক্ত করা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে প্রচলিত আইন ও যথাযথ প্রক্রিয়ায় তার প্রতিকার হতে পারে। কিন্তু বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা বা অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো সাংবাদিক সমাজকে দায়ী করা যুক্তিসংগত নয়।
তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার আইজিপির বক্তব্যের বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান জানাবে এবং দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তিদের জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়া ক্ষেত্রে পেশাগত শিষ্টাচার ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করবে।
একই সঙ্গে আইজিপিকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে সাংবাদিক সমাজের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন ডিআরইউ নেতারা।


