সড়কজুড়ে গর্ত, ১০ মিনিটের পথ যেতে লাগে আধা ঘণ্টা

সড়কজুড়ে গর্ত, ১০ মিনিটের পথ যেতে লাগে আধা ঘণ্টা
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ছিলোনিয়া সড়ক। প্রায় আড়াই যুগ ধরে সড়কটির ইউনিয়ন অংশে বড় ধরনের উন্নয়ন হয়নি। কোথাও উঠে গেছে ইট, কোথাও তৈরি হয়েছে ছোট-বড় গর্ত। ভাঙাচোরা পথে ১০ মিনিটের যাত্রায় লাগছে আধা ঘণ্টা। বাড়ছে যাতায়াতের খরচ। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রোগী ও প্রসূতিদেরও।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ এটি। সড়কটির বেহাল অবস্থায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত সংস্কার ও টেকসই উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন।

আজিমপুর আদর্শ বাজার থেকে শুরু হয়ে ছিলোনিয়া বিলের মাঝখান দিয়ে সড়কটি যুক্ত হয়েছে ফটিকছড়ি পৌরসভার বিবিরহাটমুখী সড়কে। সরকারি নথিতে এর নাম ‘মফজল আহমদ সিকদার সড়ক’। স্থানীয়দের কাছে এটি ছিলোনিয়া সড়ক নামে পরিচিত। সড়কটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৫ সালে ইট বিছিয়ে সড়কটি নির্মাণ করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সুন্দরপুর ইউনিয়ন অংশের উন্নয়ন হয়নি। পৌরসভা অংশের প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক ইউনিব্লক দিয়ে উন্নয়ন করা হয়েছে। তবে ইউনিয়ন অংশের প্রায় তিন কিলোমিটার এখনো বেহাল। বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে গর্ত।

স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, পিকআপ ও ছোট ট্রাক চলাচল করে এখানে। সড়কের বেহাল অবস্থায় বেড়েছে যানবাহন চলাচলের সময় ও খরচ। আগে যে পথে ভাড়া ছিল ১০ টাকা, এখন সেখানে ২৫ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা।

বিকল্প পথেও ভোগান্তি কমছে না। অনেকে আজিমপুর আদর্শ বাজার-বারৈয়ারঢালা সড়ক ঘুরে যাতায়াত করেন। এতে প্রায় ছয় কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ পাড়ি দিতে হয়। বিশেষ করে প্রসবব্যথায় আক্রান্ত নারী ও জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় বাড়তি পথ পাড়ি দিতে গিয়ে বিপাকে পড়তে হয়।

আরও পড়ুন

সিএনজিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে গাড়ি চালাতে অনেক সমস্যা হয়। অল্প দূরত্বের পথ পাড়ি দিতেও বেশি সময় লাগে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তির পাশাপাশি আমাদেরও নানা সমস্যায় পড়তে হয়।’

স্থানীয় কৃষক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘গত ২০ বছর ধরে সড়কটির এমন বেহাল দশা দেখে আসছি। এলাকার প্রায় সব সড়ক পাকা হলেও এ সড়কের কোনো উন্নতি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে পড়ে থাকায় আমাদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কের দুরবস্থার কথা দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও এলজিইডিকে জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তারা সড়কটি ইউনিব্লক অথবা পিচঢালাই দিয়ে টেকসইভাবে নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান শহিদুল আজম বলেন, ‘সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। প্রতিদিনই স্থানীয়দের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ সড়কসহ সুন্দরপুরের আরও পাঁচটি সড়ক সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেছি। সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য অবগত আছেন। তিনি দ্রুত সড়কটি সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছেন।’

উপজেলা প্রকৌশলী জুনায়েদ আবছার চৌধুরী বলেন, সড়কটি উন্নয়ন প্রকল্পে প্রস্তাব করা হবে। দ্রুত এ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। তবে কবে নাগাদ উন্নয়নকাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি তিনি।

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সড়কটির উন্নয়নের অপেক্ষায় রয়েছেন ছিলোনিয়া এলাকার বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad