নির্যাতনে প্রাণ গেল বর্ষার, কারাগারে স্বামী

নির্যাতনে প্রাণ গেল বর্ষার, কারাগারে স্বামী
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

প্রেমের সম্পর্কের পর পরিবারের আপত্তি উপেক্ষা করে বিয়ে করেছিলেন জুমরাতুন নেছা বর্ষা (২৪)। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে তাকে নির্যাতন করতেন স্বামী নাবিদ হোসাইন। ব্যবসার কথা বলে শ্বশুরের কাছ থেকেও বিভিন্ন সময়ে টাকা নিতেন তিনি।

মৃত্যুর আগে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাবাকে ভিডিও কল করে বর্ষা বলেছিলেন, ‘বাবা, আমাকে বাঁচাইতে আসো।’ মেয়ের ফোন পেয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে মা-বাবা বাসায় পৌঁছান। তবে ততক্ষণে বর্ষার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় নাবিদকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁও থানার মনিপুরি পাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বর্ষার মৃত্যু হয়। পরিবারের অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে মারধরের একপর্যায়ে গলা চেপে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৫ সালের ৭ অক্টোবর নাবিদ হোসাইনের সঙ্গে ঘরোয়াভাবে বর্ষার বিয়ে হয়। আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা করার পরিকল্পনা ছিল। তবে তার আগেই বর্ষার মৃত্যু হলো।

পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য চাপ দিতেন নাবিদ। মঙ্গলবার রাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে বাবাকে ভিডিও কল করেন বর্ষা। এ সময় তিনি তাকে বাঁচাতে বাসায় আসার আকুতি জানান। মেয়ের ফোন পেয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে বাসায় পৌঁছান তার মা-বাবা। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, বর্ষা আত্মহত্যা করেছেন।

আরও পড়ুন

পরে বর্ষাকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে পরিবারের সদস্যরা আত্মহত্যার দাবি মানতে নারাজ। তাদের অভিযোগ, নির্যাতনের পর বর্ষাকে হত্যা করা হয়েছে।

বর্ষার বাবা শেখ মনোয়ার হোসেন এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনিরুজ্জামান জানান, যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময়ে বর্ষাকে মারধর করতেন তার স্বামী নাবিদ। বর্ষার শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার বাবা বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে মামলা করেছেন। পরে হাসপাতাল থেকে নাবিদকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। ঘটনার তদন্ত চলছে।

বর্ষার মা হাসিনা আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের আগে নাবিদ তার মেয়ের পড়াশোনা বন্ধ করে দেন। বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যে মারধর করে বর্ষার মাথা ফাটিয়ে দেন তিনি। ওই ঘটনায় হাসপাতালে বর্ষার মাথায় সেলাই দিতে হয়েছিল।

হাসিনা আক্তার আরও জানান, নাবিদ বিভিন্ন সময়ে ব্যবসার কথা বলে বর্ষার বাবার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। নির্যাতনের শিকার হয়ে একাধিকবার বাবাকে ফোন করে তাকে বাড়িতে নিয়ে যেতে বলেছিলেন বর্ষা। তবে পরে আবার স্বামীর কাছে ফিরে যেতেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad