হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় মাইনের আঘাতে তিনটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ধরে যাওয়ার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
এএফপির খবরে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিধি লঙ্ঘনকারী তিনটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালির অননুমোদিত দক্ষিণ পথ দিয়ে অতিক্রমের চেষ্টা করলে এই বিস্ফোরণ ঘটে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাহাজগুলো তাদের রাডার ও নেভিগেশন ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ রেখেছিল এবং নৌবাহিনীর দেওয়া সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করেছিল। তবে ঘটনাগুলো ঠিক কখন ঘটেছে এবং জাহাজগুলো কোন দেশের পতাকা বহন করছিল, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি তারা।
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্বজুড়ে ব্যবহৃত মোট খনিজ তেল ও গ্যাসের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবহনকারী এই কৌশলগত জলপথে নৌচলাচল কঠোরভাবে সীমিত করে দিয়েছে ইরান। এর জবাবে ইরানের বন্দরগুলোতে সমুদ্র অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অভিযোগ, এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযান পরিচালনাকারী সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জাহাজগুলোকে ওমানের উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণ দিকের একটি পথ ব্যবহার করতে উৎসাহিত করছে, যা তেহরানের কাছে অননুমোদিত।
আইআরজিসি নৌবাহিনী সতর্ক করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির অননুমোদিত রুটে মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এসব পথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের যাবতীয় দায়ভার এর মালিক ও ক্রুদের ওপরই বর্তাবে। তাই সেন্টকমের বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
এদিকে যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্যবিষয়ক সংস্থা ‘ইউকেএমটিও’ বৃহস্পতিবার জানায়, তারা হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে আগুন লাগার খবর পেলেও আগুন লাগার কারণ বা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেনি। ক্ষতিগ্রস্ত ওই জাহাজটি আইআরজিসির উল্লেখ করা তিনটি জাহাজের কোনোটি কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
পৃথক এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানিয়েছে, পশ্চিম হরমুজ প্রণালিতে এক অভিযানের সময় তাদের ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘এমকিউএম-১৭০’ নজরদারি ড্রোন সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জব্দ করেছে।


