‘আম কাঁঠালের ছুটি’-খ্যাত নির্মাতা মোহাম্মদ নুরুজ্জামানের দ্বিতীয় পূর্ণদৈর্ঘ্য ‘মাস্তুল’। সিনেমাটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে ১৭ জুলাই।
টাইমস অব বাংলাদেশকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন নির্মাতা নিজেই।
সিনেমাটি ৪৭তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে ‘স্পেশাল মেনশন’ পুরস্কার লাভ করেছে। সম্মাননাপত্রে জুরিরা লেখেন, ‘For a humanistic view of everyday life’ বা দৈনন্দিন জীবনের মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির জন্য স্বীকৃতি দিচ্ছেন তারা। এছাড়া রাশিয়ার ১৮তম চেবোক্সারি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘বেস্ট আর্টিস্টিক কন্ট্রিবিউশন’ পুরস্কারের পাশাপাশি স্পেনের ২৬তম ইমাজিন ইন্ডিয়া উৎসবে ‘সেরা মানবিক চলচ্চিত্র’ বিভাগে মনোনীত হয়।
সিনেমার কাহিনী গড়ে উঠেছে একটি জ্বালানীবাহী তেলের ট্যাংকারের বৃদ্ধ রাঁধুনি ‘মকবুল’ এবং বন্দর এলাকার এক পথশিশু ‘নূরা’-র সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। এরমধ্য দিয়ে নদী ও বন্দরে ভাসা মানুষের জীবনের বিচ্ছিন্নতা, স্নেহ, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আর টিকে থাকার কঠিন লড়াইয়ের গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
সিনেমাটি নির্মাণে বাস্তবধর্মী আবহ ধরে রাখতে কোনো কৃত্রিম সেট ব্যবহার না করে ব্যস্ত জাহাজ ও জনবহুল মাছবাজারের মতো বাস্তব লোকেশনে শুটিং করা হয়েছে-এমনটা জানালেন পরিচালক। এমনকি নির্মাণের ক্ষেত্রে পেশাদার অভিনেতাদের পাশাপাশি ট্যাংকারে কর্মরত প্রকৃত খালাসিদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পরিচালকের নিজের শহর এবং বাংলাদেশের অন্যতম ব্যস্ত নদীবন্দর নারায়ণগঞ্জ-এর প্রেক্ষাপটেই এই সিনেমার জন্ম। তার মতে, এখানকার লোকেশনগুলো তার হাতের রেখার মতো চেনা আর চরিত্রগুলো খুব কাছ থেকে দেখা। জাহাজের মতো একটি বিচ্ছিন্ন ও সীমাবদ্ধ জায়গায় মানুষের ক্ষমতার লড়াই, টিকে থাকার চেষ্টা এবং সম্পর্কের গভীরতা ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে এই বাস্তব অভিজ্ঞতা তাকে প্রেরণা জুগিয়েছে।
‘মাস্তুল’-এ মকবুল চরিত্রে অভিনয় করেছেন পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন দীপক সুমন, আমিনুর রহমান মুকুল, আরিফ হাসান এবং সিকদার মুকিত।
চলচ্চিত্রটি প্রযোজনা করেছে ‘সিনেমাকার’ এবং এর প্রচার ও বিপণন দেখভাল করছে ‘টঙঘর টকিজ’। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড থেকে এটি সকল বয়সের দর্শকদের জন্য প্রদর্শনযোগ্য বা ‘ইউ’ সার্টিফিকেট লাভ করেছে।


