গোপালগঞ্জে ‘মুজিববাদীরা’ জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের হত্যার উদ্দেশে জঙ্গি কায়দায় হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে সরকারকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছেন।
বুধবার রাতে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
নাহিদ জানান, বৃহস্পতিবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে। এছাড়া ফরিদপুরে এনসিপির নির্ধারিত পথসভার কর্মসূচি বহাল থাকবে।
হামলায় এনসিপির তিনজন আহত, ছয়টি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, “ফ্যাসিস্ট ও ‘মুজিবাদীরা’ অস্ত্র নিয়ে এই হামলা চালিয়েছে, তারা পুলিশের উপর হামলা চালিয়েছে।”
‘আওয়ামী লীগ একটি জঙ্গি সংগঠনে পরিণত হয়েছে, তারা আর রাজনৈতিক দল নেই। সেটা তারা স্পষ্ট করেছে।’
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নাহিদ বলেন, ‘আমরা প্রত্যেক জেলায় যাওয়ার আগে তাদের ক্লিয়ারেন্স নিয়ে যাই। গোপালগঞ্জেও সেভাবে গিয়েছি। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশের ভূমিকা আরো দৃঢ় হওয়া উচিত ছিল। প্রশাসনের তৎপরতা নিয়ে
যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। পুলিশ প্রশাসন সচেতন হলে হামলা ঠেকানো যেত। ‘
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আগেই বলেছিলাম, সারাদেশের ফ্যাসিস্টদের আশ্রয়কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এই গোপালগঞ্জ। মামলার আসামিরা এখানে আছে। তারা হত্যার উদ্দেশে এই হামলা চালিয়েছে।’
‘তবে গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো দল সমাবেশ করতে পারে না। আমরা আজকে সেই মিথ ভেঙে দিয়েছি।’
নাহিদ ইসলাম এ হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি আরও জানান, বৃহস্পতিবার ফরিদপুরে এনসিপির নির্ধারিত পথসভার কর্মসূচি বহাল থাকবে।
বুধবার দুপুরে গোপালগঞ্জ শহরের পৌরপার্ক এলাকায় সমাবেশের সময় হামলার শিকার হন এনসিপির নেতাকর্মীরা। এরপর এনসিপির শীর্ষ নেতারা সেখান থেকে ফেরার পথে গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের জেরে গোপালগঞ্জে কারফিউ জারি করা হয়েছে।


