ঝিনাইদহে ‘মব করে’ শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

ঝিনাইদহে ‘মব করে’ শিক্ষকের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন
Advertisement
Advertisement

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে বড় বায়সা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের ওপর হামলা, হয়রানিমূলক মামলা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষকরা।

এসময় তারা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও মব সৃষ্টি করে হামলার ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

বৃহস্পতিবার বিকালে কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সামনে ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কালীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি নিহার সুলতানা ও সাধারণ সম্পাদক আলী মুর্তজা রেজা ফিটু। আরও বক্তব্য রাখেন সহকারী শিক্ষক মোরশেদ হোসেন, আবু তাহের, রফিকুল ইসলাম, রেজাউল করিম ও জিল্লুর রহমান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ‘স্কুলে দ্বায়িত্বরত অবস্থায় একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে মব সৃষ্টি করে হামলা চালিয়েছে স্থানীয় লোকজন। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। একজন শিক্ষককে পূর্বশত্রুতার জেরে ফাঁসানোর জন্যই কথিত অভিযোগ তোলা হয়েছে। আজ শিক্ষকদের কোনো নিরাপত্তা নেই। কখনো অভিভাবক, কখনো এলাকাবাসী, কখনো ম্যানেজিং কমিটির লোকজন, প্রায়ই আমরা দেখছি শিক্ষকদের জিম্মি করে হেনস্থা করা হচ্ছে।’

আরও পড়ুন

মানববন্ধনে হামলার শিকার শিক্ষকের স্ত্রী তানিয়া খাতুন বলেন, ‘স্কুলের পুকুর লিজের টাকার ভাগ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে আমার স্বামীকে মব করে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। যারা হামলা করেছে, তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আমরা দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’

উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি নিহার সুলতানা বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সূত্রে জানতে পেরেছি স্থানীয় সৌরভ সরকার ও সাবেক এক ইউপি মেম্বার ওই স্কুলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আসছিল। এ নিয়ে বিরোধের জেরে শিক্ষক শাহ আলমকে ফাঁসানো হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই। মব সৃষ্টি করে যারা হামলা চালিয়েছে, তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। অন্যথায়, জেলার শিক্ষক সমাজ কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।’

গত মঙ্গলবার সকালে ছাত্রী নিপীড়নের অভিযোগ তুলে মব সৃষ্টি করে বড় বাইসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহ আলমকে গণপিটুনি দেয়।

গত সোমবার স্কুল কমিটির এক সদস্য প্রধান শিক্ষককে মোবাইল ফোনে স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে বলে জানায়। পরে প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রীর বাড়িতে গেলে ওই ছাত্রীর মা জানায়, স্কুলের সহকারী শিক্ষক শাহ আলম গত দুই সপ্তাহ ধরে তার মেয়েকে দুপুরে খাওয়ার জন্য ১০ টাকা করে দেন। সোমবার শিক্ষক শাহ আলম নিজের হাতে ‘ওয়াশরুমে যাও’ লিখে ওই ছাত্রীকে দেখায়। লেখাটি দেখে ওই ছাত্রী বাড়িতে চলে যায়। পরে সে তার মা-বাবাকে জানায়, শিক্ষক শাহ আলম তাকে নানাভাবে হয়রানি করে।

পরে ওই ছাত্রীর চাচা সৌরভ সরকার, বাবুসহ ১০/১২ জন বহিরাগত লোকজন সহকারী শিক্ষক শাহ আলমকে বেধড়ক মারধর করে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad