মানিচেঞ্জারদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের ওপর নজরদারি কঠোর করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
এখন থেকে প্রতিটি লেনদেন নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনলাইন মনিটরিং ব্যবস্থা বা ড্যাশবোর্ডে রিপোর্ট করতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ ছাড়া কোনো বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা করা যাবে না।
মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে মঙ্গলবার নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বিএফআইইউ। ২০১৫ সালে জারি করা এ সংক্রান্ত আগের নির্দেশনা প্রতিস্থাপন করে নতুন বিধান অবিলম্বে কার্যকর করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় প্রতিটি মানিচেঞ্জারকে সেবা নেওয়া প্রত্যেক গ্রাহকের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় ও প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিএফআইইউ বলেছে, উক্ত তথ্য সংগ্রহ ব্যতীত গ্রাহকের সাথে কোন আর্থিক লেনদেন সম্পাদন করা যাবে না।
নির্ধারিত কেওয়াইসি ফরম অনুযায়ী গ্রাহকের নাম, বাবা-মা ও স্বামী বা স্ত্রীর নাম, পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, পেশা ও ঠিকানার পাশাপাশি গন্তব্য দেশ, ভ্রমণের উদ্দেশ্য, সম্ভাব্য আগমন বা প্রস্থানের তারিখ এবং বিনিময় করা অর্থের উৎসের তথ্যও সংগ্রহ করতে হবে।
প্রতিটি লেনদেনের তথ্য আলাদা রেজিস্টার বা ডাটাবেইজে সংরক্ষণের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনলাইন ব্যবস্থায় রিপোর্ট করতে হবে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ‘প্রতিটি মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার অনলাইন মনিটরিং ব্যবস্থায়/ড্যাশবোর্ডে প্রতিটি লেনদেনের তথ্য রিপোর্ট প্রদান নিশ্চিত করবে।’
সন্দেহজনক লেনদেনের ক্ষেত্রেও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো গ্রাহকের লেনদেন বা আচরণ অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক মনে হলে প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথিসহ তা অবিলম্বে বিএফআইইউকে জানাতে হবে। সরাসরি গোপনীয় প্রতিবেদন পাঠানোর পাশাপাশি ‘goAML Web’ এর মাধ্যমেও সন্দেহজনক লেনদেন বা কার্যক্রমের প্রতিবেদন জমা দেওয়া যাবে। এ ধরনের প্রতিবেদন দেওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট গ্রাহক বা অন্য কারও কাছে প্রকাশ করা যাবে না।
রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনেও বাড়তি নজরদারি আরোপ করা হয়েছে। বিদেশি Politically Exposed Persons (PEPs), দেশের Influential Persons (IPs) এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের শনাক্ত করতে হবে মানিচেঞ্জারদের। এসব ব্যক্তির সঙ্গে লেনদেনে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীর অনুমোদন লাগবে এবং লেনদেন নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
একই বিধান তাদের পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে। অবসরের পরও অন্তত এক বছর তাদের সংশ্লিষ্ট শ্রেণিতে বিবেচনা করতে হবে।
প্রতিটি মানিচেঞ্জার প্রতিষ্ঠানকে একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে Chief Anti-Money Laundering Compliance Officer (CAMLCO) হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে। তিনি প্রতিষ্ঠানের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ কার্যক্রম তদারক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ, বিএফআইইউর সঙ্গে যোগাযোগ এবং সন্দেহজনক লেনদেনের প্রতিবেদন পাঠানোর দায়িত্ব পালন করবেন।
মানিচেঞ্জারদের ব্যবসা কেন্দ্রেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি স্থাপন করে ভিডিও কমপক্ষে দুই মাস সংরক্ষণ করতে হবে। অনুমোদিত ব্যবসা কেন্দ্রের বাইরে বৈদেশিক মুদ্রা কেনাবেচা করা যাবে না। প্রতিদিনের দেশি ও বৈদেশিক মুদ্রার সব লেনদেন ও স্থিতিও নির্দিষ্ট রেজিস্টারে রাখতে হবে।
গ্রাহকের পরিচিতি ও লেনদেনসংক্রান্ত তথ্য কমপক্ষে পাঁচ বছর সংরক্ষণ করতে হবে। বিএফআইইউ চাইলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব তথ্য ও নথি সরবরাহ করতে হবে।


