যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবে ইরানের জবাব ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাবে পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের পাঠানো প্রস্তাবনায় যুদ্ধ বন্ধের জন্য বিভিন্ন শর্ত তুলে ধরা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে, সব দিক থেকে যুদ্ধ বন্ধ করা, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ স্থগিত করা এবং ইরানে আর কোনো হামলা না চালানোর দাবি। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাম্পের দাবি, এসব প্রস্তাব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের খবরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের দুজন কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এক পৃষ্ঠা বিশিষ্ট ১৪ পয়েন্টের একটি স্মারকলিপিতে ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত করা, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ চলাচল অবারিত করাসহ বেশ কয়েকটি প্রস্তাব রাখা হয়েছে। যদিও অনেক শর্ত এখনও চূড়ান্ত চুক্তির উপর নির্ভরশীল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপরই এ প্রস্তাবের জবাব দেয় ইরান। জবাব পেয়ে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘আমি ইরানের “প্রতিনিধিদের” প্রতিক্রিয়া পড়েছি। আমার এসব পছন্দ হয়নি- পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর বর্তমানে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। যদিও মাঝে মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটছেই। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প একাধিকবার বলেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ‘খুব দ্রুত’ শেষ হবে।
অন্যদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের ইউরেনিয়ামের মজুত ধ্বংস না করা পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হবে না। সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’ শোতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখনও (ইরানে) কিছু সমৃদ্ধ জায়গা রয়েছে যেগুলো ধ্বংস করতে হবে।’
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ইরানের প্রস্তাবের কথা সরাসরি উল্লেখ না করে বলেন, ‘আমরা কখনো শত্রুর কাছে মাথা নত করব না। আর যদি আলোচনা বা সংলাপের কথা বলি, তবে তা নিশ্চয়ই আত্মসমর্পণ বা পিছু হঠার জন্য নয়।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আঘাত হানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। গত মাস থেকে সেখানে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। হামলার পরই হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। ইরানকে চাপ দিতে যুক্তরাষ্ট্রও তার সমুদ্র বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করে, এতে দুই পক্ষে উত্তেজনা আরও বাড়ে। পাশাপাশি সংকটে পড়ে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ। ফলে হু হু করে বাড়তে থাকে জ্বালানি তেলের দাম।
তথ্যসূত্র: বিবিসি


