দীর্ঘ এক বছরের চিকিৎসাভিত্তিক মূল্যায়ন শেষে বাংলাদেশের দুই নারী অ্যাথলেট জান্নাত বেগম ও কবিতা রায়কে আজীবন নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশন। বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের নতুন অ্যাডহক কমিটি দুজনকেই পুরুষ হিসেবে বিবেচনা করে নারী বিভাগে অর্জিত তাদের সমস্ত পদক প্রত্যাহার এবং জাতীয় রেকর্ড বাতিল করেছে।
২৮ বছর বয়সী জান্নাত বেগম বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এবং ১৯ বছর বয়সী কবিতা রায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করে আসছিলেন।
এর আগে স্ব স্ব সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের লিঙ্গীয় যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর ফেডারেশন বিষয়টি অধিকতর পরীক্ষার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায়।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে গঠিত পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ মেডিকেল বোর্ড দীর্ঘ পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ২০২৬ সালের মে মাসে ফেডারেশনের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
মেডিকেল বোর্ডের রিপোর্টে উভয় অ্যাথলেটের শরীরে ‘৪৬, এক্সওয়াই ডিফারেন্সেস অব সেক্স ডেভেলপমেন্ট’ (ডিএসডি) শনাক্ত করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে প্যানোস্ক্রোটাল হাইপোস্প্যাডিয়াস ও ইনগুইনাল ক্যানালে গোনাডের উপস্থিতির কথা উল্লেখ করা হয়।

একই সঙ্গে ওয়ার্ল্ড অ্যাথলেটিক্সের নির্ধারিত সীমার চেয়ে তাদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা বহুগুণ বেশি পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অ্যাথলেটিক্স ফেডারেশনের নির্বাহী কমিটি একমত হয়ে দুজনকেই নারী বিভাগের প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে জান্নাত বেগমের ৮টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি জ্যাভলিন ও ডিসকাস থ্রো-তে তার গড়ে তোলা দুটি জাতীয় রেকর্ড মুছে ফেলা হয়েছে।
অন্যদিকে, কবিতা রায়ের ১০০ মিটার, ২০০ মিটার ও ৪ X ১০০ মিটার রিলে থেকে অর্জিত ১টি স্বর্ণ, ১টি রৌপ্য ও ২টি ব্রোঞ্জ পদক বাতিল করা হয়েছে।
প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী এসব পদক এখন ইভেন্টগুলোতে পরবর্তী অবস্থানে থাকা অ্যাথলেটদের দেওয়া হবে। বাংলাদেশের অ্যাথলেটিক্সের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা এটিই প্রথম।
আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে নারী ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণের যোগ্যতা নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই দেশের ক্রীড়াঙ্গনে এই অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নেওয়া হলো। ফেডারেশনের বিজ্ঞপ্তিতে এই বিষয়ে অ্যাথলেট দুইজনের কোনো বক্তব্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।


