উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে গিয়ে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। ভারতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনেছেন সঙ্গে থাকা অপর এক বন্ধু। রোববার রাতে চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে নিহতদের মরদেহ বাংলাদেশে আনা হয়।
দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকার মো. হাবিবুর রহমান (৫৮) এবং কালিয়াকৈর উপজেলার বিল্লাল মাঝি (৫০) চিকিৎসার জন্য গত ১৫ জুন দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা কলকাতার এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিল্লাল মাঝি দীর্ঘদিন ধরে লিভার ক্যানসারে ভুগছিলেন এবং গত ৯ আগস্ট রাত ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। এর পরদিন, ১০ আগস্ট রাত ৭টা ৪৭ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান হাবিবুর রহমান। চিকিৎসকেরা জানান, স্ট্রোকজনিত জটিলতায় তার মৃত্যু হয়।
ভারতে প্রয়োজনীয় আইনি ও দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার পর তাদের সঙ্গে থাকা অন্য বন্ধু মো. আবু নাহিদ (৪৫) মরদেহ দুটি গ্রহণ করে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
১৬ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে বিল্লাল মাঝির এবং ৭টা ৩০ মিনিটে হাবিবুর রহমানের মরদেহ দর্শনা চেকপোস্টে পৌঁছায়। পরবর্তীতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সহযোগিতায় সীমান্ত প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের কাছে মরদেহ দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।
একত্রে চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে দুই বন্ধুর এভাবে মৃত্যু এবং অন্য এক বন্ধুর হাত ধরে মরদেহ দেশে ফেরার ঘটনায় এলাকা ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. তারিক হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দুইজনের মরদেহ স্বজনদের নিকট বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।


