একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে দীর্ঘ তিন দশক ধরে অবরুদ্ধ হয়ে আছে সিরাজগঞ্জের ছয়টি গ্রামের অন্তত কয়েক হাজার মানুষের জীবনযাত্রা। জনপ্রতিনিধিদের একের পর এক প্রতিশ্রুতি ও দীর্ঘ অপেক্ষার পরও আজ পর্যন্ত নির্মাণ করা হয়নি কাঙ্ক্ষিত সেতুটি।
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৯ নম্বর কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের রামগাতী, বিয়ারা, ছোটপিয়ারি, বড়পিয়ারি, ঘোনাপাড়া ও চর সাপড়ি–এই ছয়টি গ্রামের মানুষের জন্য উন্নয়নের বাস্তব চিত্র এখনো কেবল একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো ও ভাঙাচোরা সড়ক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিয়ারা ঘাট থেকে চর-সাপড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কটির অধিকাংশ এখন সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দে ভরা এই সড়কের মাঝপথে থাকা কালভার্টটির অ্যাপ্রোচ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে রয়েছে। এর পাশেই রয়েছে প্রায় ছয় মিটার গভীর একটি খাল, যার ওপর স্থায়ী কোনো সেতু নেই। ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের একমাত্র ভরসা নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। বর্ষায় খালে পানি বাড়লে নৌকায় আর পানি কমলে বাঁশের সাঁকোতে ভর করেই জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয় তাদের।
যাতায়াত ব্যবস্থার চরম বেহাল দশায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েন মুমূর্ষু রোগী, প্রসূতি, শিশু ও বৃদ্ধরা। হঠাৎ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে অ্যাম্বুলেন্স বা স্বাভাবিক যানবাহন গ্রামে ঢুকতে পারে না। সাঁকো ও ভাঙা সড়কের কারণে হাসপাতালে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগায় প্রায়ই তৈরি হয় প্রাণহানির ঝুঁকি।
যোগাযোগ সংকটের চরম প্রভাব পড়েছে স্থানীয় কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতেও। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারে পৌঁছাতে অতিরিক্ত পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে। অনেক সময় দুর্গম পথের কারণে সময়মতো পণ্য বাজারে নেওয়া যায় না, ফলে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। একই সঙ্গে বর্ষায় বিপজ্জনকভাবে খাল পার হতে গিয়ে ব্যাহত হচ্ছে কমলমতি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত স্কুলে যাতায়াত।
এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে সেতু নির্মাণ ও সড়ক সংস্কার করা হলে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি ত্বরান্বিত হবে এবং শিক্ষার্থীদের যাতায়াত নিরাপদ হবে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকৌশলী রুমানা আফরোজ জানান, বিয়ারা ঘাট মোড় থেকে চর-সাপড়ি স্কুল পর্যন্ত সেতুটি স্বল্প ব্যয় গ্রাম সড়ক সেতু-কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলেই দ্রুত দরপত্রের (টেন্ডার) মাধ্যমে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


