কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বিরোধপূর্ণ জমি দখল করতে এবং প্রতিবেশীকে হত্যা মামলায় ফাঁসাতে নিজের মাকে হত্যা করেন মেয়ে। এই হত্যাকাণ্ডের সাড়ে তিন বছর পর অবশেষে রহস্য উদ্ঘাটনের কথা জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত চাম্পা আক্তার (৪৮) উপজেলার সিন্দ্বীপ গ্রামের ফয়েজ উদ্দীনের স্ত্রী। তিনি নিজেই ঘটনার পর বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছিলেন।
পিবিআই সূত্রের বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে করিমগঞ্জ উপজেলার সিন্দ্বীপ গ্রামের নিজ বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা হালিমা। পরদিন সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরের একটি পরিত্যক্ত জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটির পর নিহতের মেয়ে চাম্পা বাদী হয়ে প্রতিবেশী বিল্লালসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে করিমগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
পিবিআই জানিয়েছে, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি, পারিপার্শ্বিক আলামত এবং সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে শুরু থেকেই মামলার বাদী চাম্পার আচার-আচরণ সন্দেহজনক মনে হয়। পরে তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের মুখে আনা হলে তিনি নিজের মাকে হত্যার বিষটি স্বীকার করেন বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
প্রতিবেশীদের ফাঁসিয়ে তাদের জমি কবজা করার উদ্দেশ্যে এবং পূর্ববিরোধের প্রতিশোধ নিতে তিনি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন।
গত ১৮ আগস্ট চাম্পা আক্তার আদালতে হাজির হয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। আদালতের বিচারক জবানবন্দি নিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে অন্য কেউ সরাসরি যুক্ত ছিলেন কি না, তা খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক আশরাফুল আলম, খায়রুল বাশার, নবী হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


