জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ(জাকসু) নির্বাচনে ভোট গণনার সময় অসুস্থ হয়ে এক পোলিং অফিসারের মৃত্যু হয়েছে।
প্রাণ হারানো জান্নাতুল ফেরদৌস প্রীতিলতা হলের পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।
জাকসু নির্বাচনে বৃহস্পতিবার দিনভর ভোটগ্রহণের পর সন্ধ্যায় শুরু হয় ভোট গণনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব প্রফেসর এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, ‘রাতে সবাই ক্লান্ত হওয়ায় ও পোলিং এজেন্ট না থাকায় সব হল সংসদের গণনা শেষ করা যায়নি। সকালে প্রীতিলতা হল সংসদের ভোট গণনার সময় ছিল। এই হলে দায়িত্ব পালন করা ওই ম্যাম তার অন্য সহকর্মীদের সাথে ভোট গণনাকেন্দ্রে আসেন। পুরাতন রেজিস্ট্রার ভবনের সিনেট হলের দরজার সামনে এসে তিনি পড়ে যান।’
প্রীতিলতা হলের রিটার্নিং অফিসার চারুকলা বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক শামীম রেজা বলেন, ‘তাকে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
জান্নাতুল ফেরদৌসের জানাযা বাদ জুমা সেন্ট্রাল মসজিদের সামনে অনুষ্ঠিত হবে।

বহুল কাঙ্ক্ষিত জাকসু নির্বাচনে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ভোট শুরু হয়ে চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। এরপর শুরু হয় ভোট গণনা।একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় ফল ঘোষণার কথা থাকলেও, পরদিন সকাল পর্যন্ত তা ঘোষণা করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন।
দীর্ঘ ৩৩ বছরের খরা কাটিয়ে শুরু হওয়া জাকসুর ভোট নিয়ে রয়েছে সকলের বাড়তি আগ্রহ। উপরন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের একদিন পরেই হওয়ায় জাকসুর ভোটের গুরুত্ব আরো বেড়েছে।

এবার জাকসুতে মোট ভোটার সংখ্যা ১১ হাজার ৯১৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছয় হাজার ১০২ জন এবং নারী ভোটার পাঁচ হাজার ৮১৭ জন।
ভোটগ্রহণ উপলক্ষে ১০টি মেয়েদের হল ও ১১টি ছেলেদের হল মিলিয়ে মোট ২১টি হলে স্থাপন করা হয় ২২৪টি বুথ। এ ভোটে পোলিং অফিসার রয়েছেন ৬৭ জন। সহযোগী পোলিং অফিসারও ৬৭ জন। সংশ্লিষ্ট হলের ওয়ার্ডেন রিটার্নিং অফিসারের ভূমিকা পালন করছেন। এছাড়া হল সংসদের সভাপতি বা প্রভোস্ট পালন করছেন সার্বিক দায়িত্ব।


