ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খানকে প্রকাশ্যে ধমক দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস।
তিনি বলেন, ‘আজ নারী শিক্ষার্থীরা বাইরে থেকে এল আসল, বাসগুলো কম এল; আপনি বোঝেন না এটা ডাকসু নির্বাচন?’ এ সময় টেবিল চাপড়ে ভিসিকে ধমক দেন তিনি।
পরে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির তাকে নিবৃত করেন। অন্যদিকে গণেশকে উপাচার্য বলেন, ‘আপনি চুপচাপ বসে যান।’
মঙ্গলবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যান রাকিবুল ইসলাম, নাছির উদ্দীন নাছিরসহ ছাত্রদলের নেতারা। পরে প্রেস ব্রিফিংকালে চলাকালীন এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় শিক্ষকদের উপস্থিতিতেই গণেশ চন্দ্র রায় ক্ষুব্ধ ভঙ্গিতে উপাচার্যের প্রতি কঠিন ভাষায় সমালোচনা করেন এবং নানা বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পদার্থবিজ্ঞান সাবেক আ ফ ম ইউসুফ হায়দার, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের মো. লুৎফর রহমান, কলা অনুষদের ডিন মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক মোর্শেদ হাসান খানসহ অন্যান্য শিক্ষকরা।
এবার প্রায় ছয় বছর পর অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। ভোটগ্রহণ শুরু হয় সকাল ৮টা থেকে এবং বিরতিহীনভাবে চলে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। ভোটারদের প্রতিজনকে ৪১টি করে ভোট দিতে হয় ওএমআর ফরমে, ছয় পাতার ব্যালটপেপারে। মোট ১৪টি গণনা মেশিনে আটটি কেন্দ্রে ফলাফল গণনা করা হচ্ছে। ফলাফল ঘোষণা করা হচ্ছে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে এবং সরাসরি এলইডি স্ক্রিনে দেখানো হচ্ছে।
এবারের নির্বাচনে ডাকসুর ২৮টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৪৭১ জন প্রার্থী, এর মধ্যে নারী ৬২ জন। শুধু সদস্যপদেই লড়ছেন ২১৭ জন প্রার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলে ১৩টি পদে এক হাজার ৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
মোট ভোটার ছিলেন ৩৯ হাজার ৭৭৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২০ হাজার ৮৭৩ ও ছাত্রী ১৮ হাজার ৯০২ জন। নিরাপত্তার স্বার্থে ভোটাররা মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ, ব্যাগ, তরল পদার্থ বা কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেননি।
এবার প্রায় ১০টি পূর্ণ ও আংশিক প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উমামা ফাতেমার নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য’, ছাত্রদল সমর্থিত ‘আবিদ-হামিম-মায়েদ পরিষদ’, শিবির সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ সমর্থিত ‘বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ’ ও বাম জোট সমর্থিত ‘প্রতিরোধ পর্ষদ’।


