দৈনিক প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় পত্রিকা দুটির সম্পাদকদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার রাতে আগুন ও হামলার ঘটনার পর শুক্রবার তাদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। তার প্রেস উইং এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রেস উইং জানিয়েছে, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান প্রধান উপদেষ্টা।
দুই সম্পাদককে তিনি বলেন, ‘আপনাদের প্রতিষ্ঠান ও সংবাদকর্মীদের ওপর এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও ন্যক্কারজনক হামলা আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। আপনাদের এই দুঃসময়ে সরকার আপনাদের পাশে আছে।’
দেশের শীর্ষস্থানীয় দুটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ওপর এই হামলা স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর হামলার শামিল বলে মনে করেন মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ‘এই ঘটনা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে এক বিরাট বাধা সৃষ্টি করেছে।’
টেলিফোন আলাপে সম্পাদকদের ও সংবাদমাধ্যমগুলোর পূর্ণ নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধান উপদেষ্টা।
খুব শিগগিরই এই সম্পাদকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে গতরাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা শাহবাগসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করে।
বিক্ষুব্ধদের একটি অংশ প্রথমে কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর সেখান থেকে তারা যায় ফার্মগেটে ডেইলি স্টার কার্যালয়ে। সেখানেও ভাঙচুর চালানোর পাশাপাশি আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
আগুনের তীব্রতায় ভবনটির ছাদে গিয়ে আশ্রয় নেন ডেইলি স্টারের কর্মীরা। প্রায় তিন ঘণ্টা তারা সেখানে আটকা ছিলেন। পরে ভবনের নিচের পরিস্থিতি সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রণে নিলে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নেভায় এবং সংবাদকর্মীদের উদ্ধার করে।


