‘মব’ তৈরি করে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি হাসপাতালে চাঁদাবাজির সময় গ্রেপ্তার এনসিপি নেতাসহ পাঁচজনকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান এ আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন–জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা মহানগরীর মোহাম্মদপুর থানার যুগ্ম সমন্বয়কারী আব্দুর রহমান মানিক, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর থানার সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বি (২৮), হাবিবুর রহমান ফরহাদ, মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং মো. শাহিন হোসেন (৩৮)।
ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পাঁচজনকে আদালতে হাজির করা হয়। এরপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক মো. নাজমুল ইসলাম আসামিদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য মঙ্গলবার ধার্য করেছেন।
এর আগে ২০ মে রাজধানীর ধানমন্ডিতে একজন প্রকাশককে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে তার বাসায় মব করে আটক হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মোহাম্মদপুর থানার সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম রাব্বি ও তার দুই সহযোগী। ওই দিন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।
চাঁদাবাজির ঘটনায় সেফ হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক শিল্পী আক্তার সোমবার মোহাম্মদপুর থানায় এ মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১২টায় আসামি মো. শাহিন মোহাম্মদপুরের সেফ হাসপাতালে এসে গর্ভবতী স্ত্রীর বাচ্চার অবস্থা খারাপ দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ডেলিভারির অনুরোধ করেন। কর্তৃপক্ষ তাকে অন্য হাসপাতালে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও, শাহিন জানিয়ে দেন, যেভাবে হোক তার স্ত্রীর ডেলিভারি করতে হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তার কাছে সকল কাগজপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে ডেলিভারি শুরু করেন। কিন্তু নরমাল ডেলিভারিতে একটি মৃত ছেলে সন্তান প্রসব হয়। বাচ্চা মারা যাওয়ার পর আসামিরা হাসপাতালের মালিকের ছেলের মো. আবু সাইদের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় আসামিরা হাসপাতালের মেশিন ও সিসি ক্যামেরা ভাঙচুর করে দেড় লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। একপর্যায়ে সাঈদকে তুলে নিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। ভয়ে বাদী তাদেরকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেন।
পরে আসামিরা বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে চাঁদার জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকে এবং মামলার হুমকি দেয়। সর্বশেষ ২৮ সেপ্টেম্বর সাড়ে ৯টায় আসামিরা ১ লাখ টাকা চাঁদা নেয় এবং বাকি টাকা দ্রুত দেয়ার জন্য চাপ দেয়।


