জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) গত ৪ আগস্ট সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিতে সার্বজনীন কোড অব কন্ডাক্ট প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে হামলার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের সমঝোতায় যেতে রাজি হয়নি ইসলামী ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তি।
শনিবার বেলা সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে এক বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তিসহ ক্রিয়াশীল বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতারা অংশ নেন।
বৈঠকে জকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনায় শিক্ষার্থীদের জন্য পালনীয় একটি সার্বজনীন কোড অব কন্ডাক্ট প্রণয়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের মতামতের ভিত্তিতে এটি চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক রইছ উদ্দীন বলেন, জকসু সভাপতির উপস্থাপিত প্রস্তাবনার ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়ে একটি সমন্বিত কোড অব কন্ডাক্ট তৈরি করা হবে। ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এটি গাইডলাইন হিসেবে কাজ করবে।
তিনি বলেন, মত ও সংগঠন যার যার, জবি পরিবার আমার, সবার’—এই চেতনাকে ধারণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সংগঠনকে সৌহার্দ্য, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। মত ও পথের ভিন্নতা গণতান্ত্রিক পরিবেশের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। তবে ভিন্নমতের মধ্যেও অন্যের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সম্মান করতে হবে।
উপাচার্য আরও বলেন, রাজনৈতিক মতাদর্শ ও অবস্থান ভিন্ন হতে পারে এবং ভুল বা অসংগতির সমালোচনাও হতে পারে। তবে কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তিগত আক্রমণ, অশালীন ভাষা বা পারিবারিক পরিচয় তুলে অবমাননাকর বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও শালীনতার মধ্য দিয়ে মতপার্থক্যের চর্চা করতে হবে।
বিচার না হওয়া পর্যন্ত সমঝোতায় যাবে না শিবির-ছাত্রশক্তি
গত ৪ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে জকসু, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি, ছাত্রফ্রন্ট ও সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হামলার অভিযোগ ওঠে।
ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার জরুরি আলোচনা সভা ডাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৈঠকের একপর্যায়ে উভয় পক্ষকে সমঝোতায় রাজি হয়ে কোলাকুলি করার অনুরোধ করা হয়। এতে আপত্তি জানান ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির নেতারা।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশক্তির সভাপতি মো. শাহিন মিয়া বলেন, ৪ আগস্টের হামলার বিচার হওয়ার আগে কোনো ধরনের সমঝোতায় যাবে না ছাত্রশক্তি। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আগে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
জকসুর জিএস ও জবি শিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, তাদের পক্ষ থেকে একটাই দাবি—বিচার নিশ্চিত করা। বিচার নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত উপাচার্য যতবার ডাকবেন, ক্যাম্পাসের বৃহত্তর স্বার্থে তারা বসবেন এবং কথা বলবেন। তবে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের জন্য বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পক্ষে তারা সব সময় ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও থাকবেন। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে তারা প্রস্তুত। তবে বিচারের আগে কোনো ধরনের সমঝোতায় তারা রাজি নন।
জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, হামলার বিচার নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। বিচার সম্পন্ন হওয়ার পর এবং কার্যকর কোড অব কন্ডাক্ট প্রণয়ন হলে সমঝোতার বিষয় বিবেচনা করা যেতে পারে।
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যেন কোনো শিক্ষার্থী সন্ত্রাসী হামলার শিকার না হন, সেজন্য জকসুর পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে কয়েকটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক থেকে ছাত্রশক্তির ওয়াকআউট
বৈঠকের একপর্যায়ে ছাত্রশক্তির নেতারা ওয়াকআউট করেন। তাদের অভিযোগ, বৈঠকে তাদের ডাকা হলেও এটি যে সমঝোতা বৈঠক, সে বিষয়ে আগে থেকে জানানো হয়নি।
জবি ছাত্রশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখ বলেন, সব ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে সভায় ডাকা হয়েছিল। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি তাদের মূল সংগঠনের নেতা ও সংসদ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু ছাত্রশক্তিকে এসব বিষয়ে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি।
তিনি জানান, ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বা স্থানীয় পর্যায়ের কাউকে এ বিষয়ে অবগত করা হয়নি। এ কারণে তারা সভা থেকে বের হয়ে আসেন। পরে শিক্ষকদের অনুরোধে আবার সভায় যোগ দেন।


