খুলনার লবণচরায় সংঘটিত জোড়া খুনের ঘটনায় দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬। গত ২১ আগস্ট গোপালগঞ্জ সদর থানাধীন মাঝিগাতি রাজার এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে এই জোড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি শটগান, একটি পিস্তল এবং তিনটি দেশীয় চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন, আল আমিন হাসান সাইফি এবং তার সহযোগী মো. রাফিকুল ইসলাম রাকিব।
শনিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে খুলনার লবণচোরায় র্যাব-৬ হেডকোয়ার্টারে এক সংবাদ সন্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত ১৯ আগস্ট খুলনার লবণচরা থানাধীন হরিণটানা এলাকার ৮০ বিঘা নামক স্থানে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মো. মনজুর ইসলাম এবং মো. নাজমুল নামের দুই তরুণকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এই জোড়া হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জানা গেছে, ঘটনার পরপরই র্যাব-৬ এর একটি চৌকস দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তে খুলনা টুটপাড়া এলাকার ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ আল আমিন হাসান সাইফি ও তার সন্ত্রাসী চক্রের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এরপর মাঝিগাতি রাজার এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত সাইফি ও তার সহযোগী রাকিবকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
র্যাব জানিয়েছে, মূলত দুটি গ্রুপের আন্তঃকোন্দল, আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা এবং ক্ষমতা প্রদর্শনের অসুস্থ প্রতিযোগিতার জেরে এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটে। সাইফ ‘বি কোম্পানি’র মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং নিহত মনজুর ‘রোহান পলাশ গ্রুপ’-এর সাথে সম্পৃক্ত ছিল। সাইফির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, তার দলের সদস্য ও প্রথম ভিকটিম নাজমুলকে আটক করে ভিডিও কলে রেখে কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসী রফিক । এ ঘটনার পর সাইফি ও তার দলের ১৫-১৬ জন সদস্য আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ৮০ বিঘা এলাকায় গিয়ে প্রতিপক্ষ সন্ত্রাসী দলের সদস্য মনজুরুলকে তার বাবার সামনেই কুপিয়ে, গুলি করে হত্যা করে।
বাকি পলাতক আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও র্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।


