সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে তৃতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে গণনায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা মিলেছে। এ ছাড়া দুই ভরি এক রতি স্বর্ণ এবং ১৫ ভরি ২ আনা রৌপ্যসহ ঊনিশটি দেশের বৈদেশিক মুদ্রাও পাওয়া গেছে।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে গণনা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এদিন সকাল ১০টায় মাজারের তিনটি দানের ডেগ ও তিনটি দানবাক্স সিলগালা অবস্থায় খোলা হয়।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, নগদ টাকা ছাড়াও ৩১ পাউন্ড ১১ পেন্স, ৩ হাজার ২৪৮ ভারতীয় রুপি, ৬০ পাকিস্তানি রুপি, ৭০ সৌদি রিয়াল, ৮৩ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত, ৪ মার্কিন ডলার, ১০০ নেপালি রুপি, ১ হাজার বায়সা ও ১ ওমানি রিয়াল, ৬৪ দিরহাম ২২ ফিলস, ২৫০ ইরাকি দিনার, ৯০ তুর্কি লিরা, ১ হাজার ভিয়েতনামি ডং, ১ হাজার জাপানি ইয়েন, ১১২ কাতারি রিয়াল ৫০ দিরহাম, ১০ লেবানিজ পাউন্ড, ১০ মিসরীয় পাউন্ড, ৪০ ইউরো সেন্ট, ১ বাহরাইনি ফিলস এবং ১ কানাডিয়ান ডলার পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া নজরানা হিসেবে পাওয়া গরু, ছাগল, হাঁস ও মুরগির পৃথক হিসাব মাজার কর্তৃপক্ষের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১২ জুন হজরত শাহজালাল (রহ.) ও হজরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের উদ্যোগ নেন সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। পরবর্তীতে তার নির্দেশে ১৮ জুন পুরাতন তিনটি ডেগে সিলগালা ও নতুন দানবাক্স বসানো হলে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এ অবস্থার মধ্যেই সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে নেয় সরকার।
তবে প্রত্যাহারের আদেশ হলেও গত ২২ জুন সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে ৭০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের প্রকাশ্যে মাজারের দানের টাকা গণনা করা হয়।
আরও পড়ুন>>
শাহজালাল মাজারে ১৮ দিনে মিলল ৪৭ লাখ টাকা
শাহজালাল মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ১২ সদস্যের কমিটি


