ঈদুল আজহা উপলক্ষে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন পদ্মা সেতু ও যমুনা সেতু দিয়ে নির্বিঘ্নে এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরছেন ঘরমুখো মানুষ।
গত বছরের তুলনায় যানবাহনের চাপ বেশি থাকলেও সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার কারণে এবার বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা বা যানজট পরিলক্ষিত হয়নি।বুধবার সেতু মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মা সেতু দিয়ে ৪৫ হাজার ৬০২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং টোল আদায় হয়েছে ৫ কোটি ৩ লক্ষ ২৪ হাজার ৪৫০ টাকা।
অন্যদিকে, যমুনা সেতু দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৮২ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫০ টাকা। এই পরিসংখ্যান দেশের সড়ক অবকাঠামো ব্যবস্থাপনায় সেতু কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা ও দক্ষতার প্রতিফলন।
যাত্রীসাধারণের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে বুধবার সকালে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বিআরটিএ-তে স্থাপিত কন্ট্রোলরুম পরিদর্শন করেন এবং যমুনা ও পদ্মা সেতুর লাইভ ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করেন। অন্যদিকে, সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
ঈদুল আজহার ঈদযাত্রা প্রসঙ্গে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশের যাতায়াত ব্যবস্থাকে সহজ ও আধুনিক করতে নিরলস কাজ চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক নির্দেশনায় এবার সেতু এলাকায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পদ্মা ও যমুনা সেতু এলাকায় গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে-দক্ষ টোল কালেক্টর নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, সার্বক্ষণিক টোল লেন চালু, মোটরসাইকেল লেন বৃদ্ধি, নন-স্টপ ইটিসি ও ইমার্জেন্সি টোল লেন চালু, মাওয়া ও এলেঙ্গা বাস-বে উন্মুক্তকরণ, সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরার মাধ্যমে ট্রাফিক মনিটরিং এবং উচ্চপর্যায়ের সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম গঠন।
এ ছাড়া দ্রুত রেসকিউ কার্যক্রমের জন্য কর্ণফুলী টানেল থেকে আনা ভারী রেকারসহ ৩টি রেকার প্রস্তুত রাখা, প্রতি ৩০০ মিটার পর পর সিকিউরিটি গার্ড মোতায়েন, দ্রুত টোল পরিশোধের জন্য বুথে পর্যাপ্ত ভাঙতি টাকার সংস্থান এবং কোরবানির পশু বহনকারী গাড়িগুলোকে ওয়েইং স্কেল মেশিনের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস, মেডিক্যাল টিম, ওয়াশরুম এবং সুপেয় পানির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের আন্তরিক সহযোগিতা ও দায়িত্ববোধের কারণে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক ও সুশৃঙ্খল হয়েছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।


