চট্টগ্রাম বন্দর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া মানে যুক্তরাষ্ট্রকে সুযোগ দেওয়া বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় তেল, গ্যাস ও বন্দর রক্ষা কমিটির সাবেক সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ।
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব আবুধাবিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার মাধ্যমে মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের কৌশলগত বন্দর নিয়ন্ত্রণের সুযোগ করে দেওয়া।’
শনিবার চট্টগ্রামে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি’ ও ‘গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলন’-এর যৌথ আয়োজনে ‘জাতীয় সক্ষমতা ও জাতীয় নিরাপত্তা: চট্টগ্রাম বন্দর ও বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘মুহাম্মদ ইউনূস জাতীয় হীনমন্যতার ওপর দাঁড়িয়ে তার পরিকল্পনা সাজাচ্ছেন। এর মাধ্যমে জাতীয় সম্পদ ও কৌশলগত স্থাপনা বিদেশি স্বার্থে হস্তান্তরের পথ তৈরি হচ্ছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এডিবি–এই প্রতিষ্ঠানগুলো বহুজাতিক কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে। তারা নিজেদের বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষার জন্য নীতিমালা তৈরি করে দেয়, আর আমরা একে বলি “উন্নয়ন সহযোগিতা”। কিন্তু বাস্তবে এটি অর্থনৈতিক পরাধীনতা টিকিয়ে রাখার কৌশল মাত্র।’
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘বিভিন্ন সময় সরকার একাধিক সংস্কার কমিশন গঠন করেছে, কিন্তু তাদের কোনো সুপারিশ বাস্তবায়ন করেনি। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে ছিল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে। কিন্তু সরকার তা করছে না। এটি গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির পরিপন্থী।’
এ সময় আইনজীবী আকতার কবীর চৌধুরী বলেন, ‘দেশীয় কোম্পানিগুলো ভালো চালাতে পারছে না বলে বিদেশি কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এটা কেবল অজুহাত। সরকার নিজেই প্রশাসন ঠিকভাবে চালাতে পারছে না, তাহলে কি দেশের দায়িত্বও বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে?’
সভায় আরও বক্তব্য দেন শ্রমিকনেতা শেখ নূরুল্লাহ বাহার, প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্ববিৎ চৌধুরী, গণতান্ত্রিক অধিকার আন্দোলনের সদস্য ফেরদৌস আরা রুমি প্রমুখ।


