ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণহত্যার বিচার এবং শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কফিন মিছিল ও সংহতি সমাবেশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। শুক্রবার জুমার নামাজের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ-সংলগ্ন এলাকা থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
মিছিলটি সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয়ে হলপাড়া ও ভিসি চত্বর প্রদক্ষিণ করে রাজু ভাস্কর্যে পৌঁছায়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা গণহত্যার বিচার এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
সমাবেশে ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান জুলাই গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রীয় সংস্কার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং বৈষম্যহীন ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার তাগিদ দেন।
সংগঠনটির ঢাবি শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরী বলেন, ১৭ জুলাই দীর্ঘ ১৪ বছরের জেঁকে বসা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বাংলার মানুষ আওয়াজ তুলেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জিম্মি করে রাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে দেশের শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল এবং প্রতিটি ক্যাম্পাসকে দুর্গে পরিণত করে সন্ত্রাসীদের বিতাড়িত করেছিল। বিপ্লবের সেই স্ফুলিঙ্গ এখনো মানুষের মধ্যে রয়েছে।
সমাবেশে সংহতি জানিয়ে ছাত্রদলের ঢাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, জুলাইয়ের রক্তস্নাত ইতিহাস ও ত্যাগের কথা সংক্ষেপে প্রকাশ করার সুযোগ নেই। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মতো এ দেশের জনগণ বাকস্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য রক্ত দিয়ে তা প্রতিষ্ঠা করেছে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ছাত্রশক্তির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি হাসিব আল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব নাঈম আবেদিন, ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ হক, ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন খান এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলনের ঢাবি শাখার সভাপতি সাইফ মোহাম্মদ আলাউদ্দিন।


