মেয়ের আত্মহত্যার প্রায় তিন মাস পর ভোলা সদর জজ আদালতে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল শাহাবুদ্দিন ফকিরের (৪২) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত শাহাবুদ্দিন ফকির বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ বিজয়পুর গ্রামের আদম আলী ফকিরের ছেলে। তিনি ২০০৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। দীর্ঘ ২২ বছরের চাকরিজীবনে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালনের পর সর্বশেষ ভোলা সদর জজ আদালতে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে ভোলা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের অফিসারপাড়া এলাকার ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই দিন আদালতে তার দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও তিনি কর্মস্থলে যাননি। পরে সহকর্মীরা একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাড়া পাননি।
বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে সহকর্মীরা বাসায় গিয়ে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ অবস্থায় দেখতে পান। পরে ভোলা সদর মডেল থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা খুলে সামনের কক্ষ থেকে শাহাবুদ্দিনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে। জানা গেছে, তিনি বাসায় একাই থাকতেন। তার স্ত্রী প্রায় ১০ দিন আগে গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
চলতি বছরের ৪ মে এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রত্যাশামতো না হওয়ায় শাহাবুদ্দিনের একমাত্র মেয়ে তৈয়বা জাহান চৈতি (১৬) আত্মহত্যা করেন।


