নতুন তারকাদের নিয়ে কঠিন পরীক্ষায় বাংলাদেশ

নতুন তারকাদের নিয়ে কঠিন পরীক্ষায় বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

হামজা চৌধুরী ও শামিত শোমে জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার পর ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ফুটবল ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়। এশিয়ান কাপে জায়গা না পেলেও তাদের উপস্থিতিতে দলের পারফরম্যান্সে উন্নতির আশা দেখেছেন সমর্থকেরা।

এবার সেই প্রত্যাশা আরও বেড়েছে। ফারহান আলী ওয়াহিদ, শূকি ইতোফুসা ও জিদান ইউসুফ প্রথমবার বাংলাদেশের জার্সিতে বড় কোনো টুর্নামেন্ট খেলতে ইন্দোনেশিয়া যাচ্ছেন।

ফিফা এএফএএন কাপের গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়েও তিন দল বাংলাদেশের চেয়ে অনেক এগিয়ে। ইন্দোনেশিয়া ১১৮তম, মালয়েশিয়া ১৩৬তম ও সিঙ্গাপুর ১৪৮তম অবস্থানে। বাংলাদেশের অবস্থান ১৮১তম।

প্রধান কোচ টমাস ডুলি তাই বাস্তবতা মাথায় রেখে প্রত্যাশা করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এক টুর্নামেন্টে বড় পরিবর্তন সম্ভব নয়।

ডুলি বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু মানুষ ফুটবলের বাস্তবতা বোঝেন না। উন্নতি রাতারাতি হয় না। কোচিং স্টাফও মুহূর্তের মধ্যে একটি দলকে বদলে দিতে পারে না।’

তার মতে, র‍্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান কমাতে দুই থেকে তিন বছর ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে হবে। সহজেই ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া বা সিঙ্গাপুরকে হারানোর প্রত্যাশাকেও তিনি অবাস্তব বলেছেন।

প্রস্তুতির দিক থেকেও বাংলাদেশ পিছিয়ে। প্রতিপক্ষ দলগুলো গত এক মাসে চার-পাঁচটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ খেলেছে এবং ছয় থেকে আট সপ্তাহ একসঙ্গে অনুশীলন করেছে। অন্যদিকে, সান মারিনোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের পর বাংলাদেশের বেশির ভাগ স্থানীয় খেলোয়াড় প্রায় দুই মাস দলীয় অনুশীলনের বাইরে ছিলেন। ছয় সপ্তাহের প্রস্তুতির প্রয়োজন হলেও ডুলি পেয়েছেন মাত্র চার সপ্তাহ।

আরও পড়ুন

ডুলি বলেন, ‘ম্যাচের ফল শুধু পরিশ্রমের ওপর নির্ভর করে না। লিগের মান, খেলোয়াড়দের উন্নয়ন ও প্রস্তুতির মাত্রাও বড় ভূমিকা রাখে।’

ইন্দোনেশিয়ার ছয়-সাতজন খেলোয়াড় জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও ইতালিতে খেলছেন বলেও জানান তিনি। তার মতে, শুধু পরিশ্রম দিয়ে এই ব্যবধান পূরণ করা সম্ভব নয়।

তবে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া কিছুটা আশাবাদী। ২০১৮ সালের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, ‘কেউ বিশ্বাস করেনি আমরা পরের রাউন্ডে যেতে পারব। কিন্তু আমরা সেটি করে দেখিয়েছিলাম। এবারও তেমন কিছু হতে পারে।’

সাবেক জাতীয় দলের খেলোয়াড় জাহিদ হাসান এমিলির প্রত্যাশা অবশ্য সীমিত। তার লক্ষ্য সিঙ্গাপুরকে হারানো, মালয়েশিয়ার সঙ্গে ড্র করা এবং ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ খেলা।

এমিলি বলেন, ‘ম্যাচগুলো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। এর চেয়ে বেশি কিছু হলে সেটি বাড়তি অর্জন।’

সমর্থকদের প্রত্যাশাও জামালের আশাবাদ ও ডুলির সতর্কতার মাঝামাঝি। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ইমরোজ হোসাইন চৌধুরী মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় বা ড্র চান। ‘সেভ বাংলাদেশ ফুটবল’ কমিউনিটির পরিচালক দীন মোহাম্মদ মনে করেন, সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেই বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা বেশি। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটিকে তিনি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন।

হামজা, শামিত ও ফারহানের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের দলের সক্ষমতা বেড়েছে। তবে র‍্যাঙ্কিংয়ের হিসাবে তিন প্রতিপক্ষই অনেক এগিয়ে। তাই এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের সাফল্য শুধু জয় দিয়ে বিচার করা কঠিন।

প্রতিটি ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা, গ্রুপে তৃতীয় হওয়ার চেষ্টা এবং ধীরে ধীরে র‍্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান কমানোই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হতে পারে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad