ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওরে ‘বুক সমান’ পানিতে ফসল বাঁচাতে কৃষকের লড়াই

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওরে ‘বুক সমান’ পানিতে ফসল বাঁচাতে কৃষকের লড়াই
তলিয়ে যাওয়া ধান ঘরে তুলতে বুক সমান পানিতে নেমে কাটছেন কৃষকরা | ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার বিস্তীর্ণ হাওর তলিয়ে গেছে। তলিয়ে যাওয়া সোনালি ধান ঘরে তুলতে বুক সমান পানিতে নেমে চরম সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ধান কাটছেন স্থানীয় কৃষকরা। মেদির হাওরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন ফসল হারানোর আতঙ্কে দিন কাটছে কয়েক হাজার পরিবারের।

শুক্রবার মেদির হাওরে গিয়ে দেখা গেছে, ১০ থেকে ১২ জন কৃষক কোষা নৌকা নিয়ে তলিয়ে যাওয়া ধান কাটার চেষ্টা করছেন। একদিকে বৃষ্টি আর অন্যদিকে হাওরের বাতাসের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পানির নিচ থেকে অনুমান করে ধান কাটছেন তারা। উপজেলার মেদির হাওর, মাছমা হাওর, চিনাকান্দি ও বড়কান্দি হাওরসহ বিভিন্ন এলাকার ফসল এখন পানির নিচে।

ছবি: টাইমস

কৃষক জালাল উদ্দিন জানান, তিনি ১২ কানি জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। ফসল পাকার শেষ মুহূর্তে সব তলিয়ে যাওয়ায় তার স্বপ্ন এখন ফিকে হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের আয়ের একমাত্র উৎস কৃষি। চোখের সামনেই সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, আর পাওয়া গেলেও মজুরি চাচ্ছে দ্বিগুণ। ১২ কানির মধ্যে মাত্র তিন কানির ধান কাটতে পেরেছি।’

আরও পড়ুন

আরেক কৃষক আহাদ আলী জানান, এক মণ ধান বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায়, শ্রমিকের মজুরি দিতে হচ্ছে তার চেয়েও বেশি। এর ওপর পানির নিচ থেকে তোলা ধান বৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঋণ করে চাষাবাদ করা কৃষক নূর আলম এখন পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন এবং সরকারি সহযোগিতার দাবি জানিয়েছেন।

ছবি: টাইমস

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নাসিরনগরে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ৭৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে।

নাসিরনগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইমরান হোসেন বলেন, ‘গত দুদিন ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় হাওরের পানি কিছুটা কমেছে। তলিয়ে যাওয়া ৩০ শতাংশ জমির মধ্যে নতুন করে ১০ শতাংশ জমির ধান কাটা সম্ভব হয়েছে। পানি দ্রুত নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ কমে আসবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad