সান্ধ্য আইন সম্পূর্ণ বাতিল চায় ‘অবরোধবাসিনী’

সান্ধ্য আইন সম্পূর্ণ বাতিল চায় ‘অবরোধবাসিনী’
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী শিক্ষার্থীদের ওপর আরোপিত ‘সান্ধ্য আইন’ সম্পূর্ণ বাতিল এবং ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে ছাত্রীদের প্ল্যাটফর্ম ‘অবরোধবাসিনী’।

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে আংশিক বা সাময়িক শিথিলের সিদ্ধান্তকে ‘প্রহসন’ হিসেবে উল্লেখ করে তা সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর ঢাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক ইসরাত জাহান ইমু, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ঢাবি শাখার সদস্য সচিব অদিতি ইসলাম এবং নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী তানজিলা ইসলাম। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের নারী শিক্ষার্থীরা।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত ৩০ জুলাই থেকে তিন দফা দাবিতে প্ল্যাটফর্মটি ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে আসছে।

গত ৯ আগস্ট উপাচার্য বরাবর ১ হাজার ২০০ এর বেশি শিক্ষার্থীর সইসহ স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পর ১০ আগস্টের সংহতি সমাবেশ থেকে প্রশাসনকে সুনির্দিষ্ট আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রশাসন সব দাবি উপেক্ষা করে সান্ধ্য আইন মাত্র ৯ ঘণ্টার জন্য শিথিলের যে প্রস্তাব দিয়েছে, তাকে অসম্মানজনক ও আপসমূলক বলে অভিহিত করেন তারা।

আরও পড়ুন

নারীদের প্রতি নিরাপত্তার নামে বৈষম্যমূলক কাঠামোর চিত্র তুলে ধরে তারা বলেন, ক্যাম্পাসে পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য ২৪ ঘণ্টা অবাধ চলাচলের সুযোগ থাকলেও নারী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত মাত্র ১৬ ঘণ্টায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।

বাকি ৮ ঘণ্টা সান্ধ্য আইনের অজুহাতে প্রশাসন নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার মূল দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায়, যা এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য।

হলগেটে শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও তথাকথিত ‘মুচলেকা’ সংস্কৃতির সমালোচনা করে তারা বলেন, রাতে নির্ধারিত সময়ের পর হলে প্রবেশ কিংবা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে ‘প্রশাসন কোনো দায় নেবে না’ মর্মে জোরপূর্বক লিখিত নেওয়া হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে গঠিত প্রশাসন এভাবে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও অধিকারের দায় এড়িয়ে চলতেই এমন সংস্কৃতির চর্চা করছে।

এ ছাড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অবকাঠামো ও মুক্তস্থানে নারীদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার অভিযোগ এনে তারা বলেন, ইনডোর গেমস, জিমনেসিয়াম, কার্জন হল প্রাঙ্গণসহ বিভিন্ন স্থানে নারী শিক্ষার্থীদের চলাচলের ওপর অন্যায্য ও বৈষম্যমূলক সময়সীমা চাপিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে মুক্তবুদ্ধি চর্চার বিদ্যাপীঠে নারীরা বারবার প্রাতিষ্ঠানিক বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

শিক্ষার্থীরা আরও, নারী শিক্ষার্থীরা কোনো বিশেষ অনুগ্রহ বা আংশিক শিথিলতা চাচ্ছেন না, বরং একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হিসেবে ক্যাম্পাসে ২৪ ঘণ্টা অবাধ বিচরণ ও সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার অধিকার চান।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তারা বলেন, আগামী দিনে অবস্থান কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন পথসভা ও হলভিত্তিক নানা কর্মসূচি পালন করা হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad