ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার করে একটি মহল বাংলাদেশে বারবার অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব ইউনুস আহমদ।
সম্প্রতি বাউল আবুল সরকারের গ্রেপ্তার ও তার অনুসারীদের ওপর হামলার ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মঙ্গলবার গণমাধ্যমে বিবৃতি পাঠায় দলটি।
সেখানে দলের মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, বাউলকাণ্ডে প্রতিক্রিয়াকে বড় করে দেখানো হচ্ছে। এর পেছনে কোনো রাজনীতি আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখার আহ্বানও জানান তিনি।
বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ। ধর্ম সম্পর্কে তাদের অনুভূতি খুবই সংবেদনশীল। এই সুন্দর ও উত্তম নাগরিক বৈশিষ্ট্যটি ব্যবহার করেই কুচক্রী মহল বারংবার অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা করেই যাচ্ছে।’
‘তারই ধারাবাহিকতায় বাউল আবুল হোসেন মহান আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে অশালীন-অশ্লীল মন্তব্য করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করেছে আর এখন আরেক দল সেই সুযোগে স্বার্থ হাসিলের নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে।‘
দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক ঐক্য নষ্ট করতে একে গভীর চক্রান্তের অংশ বলে মনে করেন ইসলামী আন্দোলন।
যারা সমাজে এ ধরনের অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছে দলটি।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, ‘বাউলকাণ্ডে প্রতিক্রিয়াকে বড় করে দেখানো হচ্ছে। বাউল আবুল হোসেনের ধৃষ্টতামূলক মন্তব্যকে আমলে না নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় জনতা কি করেছে তা প্রধান করে তোলা হয়েছে। অথচ বাউল আবুল হোসেন যে অশ্লীল ও অশালীন মন্তব্য করেছে তা সীমাহীন অপরাধ।’
বাকস্বাধীনতার নামে কাউকে অপমান করা, কারও বিশ্বাসে আঘাত দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাউল আবুল হোসেন সেই অপরাধ করে পরিস্থিতি উসকে দিয়েছে। তাই বাউল আবুল হোসেন এবং এখন যারা তার পক্ষ নিচ্ছেন তাদের কোনো রাজনৈতিক হীন অভিলাষ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।’
এই ঘটনায় সাধারণ জনতার ওপরে দোষারোপের রাজনীতি চলছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, এই রাজনীতি রোধ করতে হবে।
যেকোনো ঘটনা বস্তুনিষ্ঠ দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানিয়ে ইউনুস আহমদ বলেন, ‘ইনসাফের সঙ্গে পক্ষ বাছাই করতে হবে। প্রতিটি ঘটনার ক্রিয়া ও তার প্রতিক্রিয়া কী, কারা এর দ্বারা লাভবান হচ্ছে তা বিবেচনায় নিতে হবে। জাতির এই ক্রান্তিকালে সতর্কতার সঙ্গে সবাইকে ভূমিকা নির্ধারণ করতে হবে।’


