কুড়িগ্রামের রাজারহাট রেলস্টেশন এখন আর যাত্রীসেবার জায়গা নয়, এটি এখন ময়লার ভাগাড়। স্টেশন ভবনের চারপাশে জমে আছে নোংরা পানি, সেখানে জন্মেছে কচু ও কচুরিপানা। আবর্জনার স্তূপ থেকে ছড়াচ্ছে তীব্র দুর্গন্ধ। এর ফলে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রী এবং পথচারীরা। স্থানীয় বাসিন্দারাও এই দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকায় এই স্টেশনে যাত্রীসেবার ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নেই। পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে যাত্রীদের বিশ্রামাগার ও শৌচাগার। ট্রেনে ওঠানামার জন্য কোনো প্ল্যাটফর্ম না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্টেশন ভবনের দুই পাশে নিচু জায়গায় নোংরা পানি জমে আছে। সেখানে বাজারের আবর্জনা মিশে অসহনীয় দুর্গন্ধ তৈরি করছে। ভবনের দেওয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক জায়গার ঢালাই উঠে গেছে, এতে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
লালমনিরহাটগামী যাত্রী রিফাত হোসেন বলেন, স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। চারপাশের দুর্গন্ধে সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থান করাও কঠিন হয়ে যায়।
রাজারহাট সাংবাদিক ফোরামের সদস্য সচিব ও স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল রানা বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, স্টেশন এলাকার নিচু জায়গা ভরাট করা হয়নি। এই সুযোগে আশপাশের কচুবাগান ও বাজারের সব ময়লা এখানে ফেলা হয়। যাত্রীদের জন্য কোনো শৌচাগার নেই। ফলে যাত্রীরা আশপাশের বাড়িতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন।
স্টেশনে প্রবেশপথের পান বিক্রেতা হাফিজুর রহমান বলেন, স্টেশন ভবন মেরামতের জন্য বরাদ্দ এসেছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে এখনো কোনো কাজ শুরু হতে তিনি দেখেননি।
স্টেশন মাস্টার সুমন এই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ময়লার দুর্গন্ধে তারাও অতিষ্ঠ। তারা স্টেশন পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করেন, কিন্তু রাতের আঁধারে এখানে ময়লা ফেলে স্থানীয়রা। এছাড়া মসজিদের ওজুখানা ও মাছ বাজারের পানি এসে এখানে জমে।
তিনি জানান, স্টেশন ভবন মেরামতের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেছে। প্রথমে দরজা ও জানালার কাজ শুরু হবে। এরপর মূল ভবনের সংস্কার কাজ করা হবে। প্ল্যাটফর্ম নির্মাণের বিষয়টিও বর্তমানে রেলওয়ের পরিকল্পনায় রয়েছে।
রাজারহাট রেলস্টেশন ছিল একসময় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র। এখন এটি অবহেলা আর দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। দ্রুত সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। এটি না করলে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


