যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম মারা গেছেন। শনিবার সন্ধ্যায় ৭১ বছর বয়সে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টর মিত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপবাদী পররাষ্ট্রনীতির জোরালো সমর্থক ছিলেন।
রোববার ভোরে সিনেটর গ্রাহামের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, স্বল্প ও আকস্মিক অসুস্থতার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি ইউক্রেন সফর শেষে দেশে ফেরা লিন্ডসে গ্রাহামের রোববার সকালে এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
সিনেটর গ্রাহামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিন্ডসে গ্রাহামকে তার চেনা অন্যতম মহান ব্যক্তিত্ব ও সিনেটর হিসেবে আখ্যায়িত করেন। ট্রাম্প লেখেন, তিনি সবসময় কাজ করে যেতেন এবং তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের আমেরিকান দেশপ্রেমিক। লিন্ডসের অভাব গভীরভাবে অনুভূত হবে।
কেন্টাকি থেকে নির্বাচিত অপর প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর মিচ ম্যাককনেল যখন অপ্রকাশিত কারণে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, ঠিক তখনই লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর খবর এল। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত কর্মসূচিগুলো এগিয়ে নেওয়ার জন্য যখন সিনেট রিপাবলিকানদের ওপর চাপ রয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে গ্রাহামের চলে যাওয়া দলটিকে একজন জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা ও নির্ভরযোগ্য ভোট থেকে বঞ্চিত করল।
বিমানবাহিনীর সাবেক এই আইনজীবী কংগ্রেসের সদস্য থাকাকালেও বিমানবাহিনীর রিজার্ভ ফোর্সে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া, সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ইরাক ও আফগানিস্তানে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য মোতায়েন ছিলেন। লিন্ডসে গ্রাহাম ১৯৯৪ সালে প্রথমবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ২০০২ সালে তিনি সিনেট আসনে জয়লাভ করেন। গত মাসেও পঞ্চম মেয়াদে প্রার্থী হওয়ার লড়াইয়ে রিপাবলিকান পার্টির প্রাথমিক বাছাইয়ে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বীকে পরাজিত করেন তিনি। আগামী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও শিশু বিশেষজ্ঞ অ্যানি অ্যান্ড্রুজের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল তার।
গ্রাহামের শূন্য আসনটি পূরণের জন্য সাউথ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান গভর্নর হেনরি ম্যাকমাস্টার অবিলম্বে একজন অস্থায়ী প্রতিনিধি নিয়োগ দিতে পারবেন।
২০১৬ সালে রিপাবলিকান পার্টির প্রেসিডেন্ট মনোনয়নের দৌড়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন লিন্ডসে গ্রাহাম, যদিও সেই চেষ্টা সফল হয়নি। পরবর্তীতে তিনি ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হন। গ্রাহাম বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যবহারের পক্ষে সবসময় জোরালো যুক্তি তুলে ধরতেন। তিনি ইসরায়েল ও ইউক্রেনের কট্টর সমর্থক ছিলেন এবং উভয় দেশে একাধিকবার সফর করেছেন। সম্প্রতি তিনি ইরানের বিরুদ্ধেও আগ্রাসী সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশ্বের বহু কূটনীতিক ও নেতার কাছে তিনি অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন এবং রোববার তাদের অনেকে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।


