ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। গত ফেব্রুয়ারির শেষে শুরু হওয়া যুদ্ধে এ পর্যন্ত আহত হয়েছেন ৪১৪ মার্কিন সেনা। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সরকারি হিসাবে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সবশেষ জুলাইয়ের শুরুতে আরব সাগরে একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মার্কিন নৌবাহিনীর এক পাইলট নিহত হন। এই সংঘাতে আহত মার্কিন সেনাসদস্যের সংখ্যাও সোমবার পর্যন্ত বেড়ে ৪০০ ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানান, আহতদের অধিকাংশই আঘাতজনিত মস্তিষ্কের সমস্যায় ভুগছেন।
মার্কিন নৌবাহিনী শুরুতে ১ জুলাইয়ের ওই হেলিকপ্টার দুর্ঘটনাকে ‘জরুরি অবতরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল। সে সময় তারা জানিয়েছিল, এই জরুরি পরিস্থিতি শত্রুপক্ষের কোনো হামলার কারণে হয়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
দুর্ঘটনার পর হেলিকপ্টারে থাকা বাকি তিন নাবিককে দ্রুত উদ্ধার করা হয়।
সে তথ্যানুযায়ী, পেন্টাগনের যুদ্ধজনিত হতাহতের হিসাবে জুলাইয়ে নিহত ওই পাইলটকেও যুক্ত করা হয়েছে, যিনি যুদ্ধের বাইরে নিহত হয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর আলাদা দুটি ঘটনায় ১৩ সেনাসদস্য নিহত হওয়ার পর এটিই প্রথম নতুন মৃত্যু।
যুদ্ধের শুরুর দিকে কুয়েতে একটি মার্কিন কমান্ড সেন্টারে ইরানের ড্রোন হামলায় ছয় সেনা নিহত হন।
এরপর সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলায় আহত হওয়ার এক সপ্তাহের বেশি সময় পর একজন সেনাসদস্য মারা যান।
আরেক ঘটনায় ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী কেসি-১৩৫ জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ইরাকে বিধ্বস্ত হলে আরও ছয় সেনাসদস্য নিহত হন।
সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৪১৪ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। সোমবার এই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর আরও এক সদস্য।
তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ফের হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হওয়ার পর ওই বিমানবাহিনীর সদস্যের আহত হওয়ার সঙ্গে সাম্প্রতিক হামলার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা পরিষ্কার নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডও বিমানবাহিনীর ওই সদস্য সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি।
তবে যুদ্ধ চলাকালে আহতদের বড় অংশের ক্ষেত্রে আঘাতজনিত মস্তিষ্কের সমস্যা সামরিক বাহিনীর জন্য ক্রমেই বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও কাছাকাছি বিস্ফোরণের শিকার সেনাদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যা বেশি দেখা যাচ্ছে।
আঘাতজনিত মস্তিষ্কের সমস্যা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী মানসিক চাপজনিত সমস্যা ২০০১ সালের পরের যুদ্ধগুলোতে অংশ নেওয়া সেনা সদস্যদের অন্যতম প্রধান আঘাত হিসেবে পরিচিত হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে এসব সমস্যার প্রভাব এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
সোমবার গুরুতর আহত সেনাসদস্যদের সবশেষ সংখ্যা জানতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ডের মুখপাত্র মেজর এমা থম্পসন জানান, এ বিষয়ে তার কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই। তিনি জানান, আহতদের ‘প্রায় সবাই’ নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরে গেছেন।
তবে কতজন সেনাসদস্যকে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত থেকে সরিয়ে নেওয়ার মতো গুরুতর আহত হয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো সংখ্যা জানাননি।


