ট্রেনের ভাড়া যৌক্তিক হারে নির্ধারণ করে আয়-ব্যয়ের ব্যবধান কমাতে চায় বাংলাদেশ রেলওয়ে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, যেহেতু বর্তমান ভাড়া গত ১০ বছরেও বৃদ্ধি করা হয়নি, তাই অন্যান্য পরিবহন মাধ্যম ও বর্তমান বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রেলের ভাড়া যৌক্তিক হারে নির্ধারণ করলে আয়-ব্যয়ের ব্যবধান আরও অনেক কমে আসবে। রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন এবং এর ভাড়া রেয়াতি হারে নির্ধারিত। গত ২০১৬ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত রেলের ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি।
অথচ এই সময়ের মধ্যে রেলওয়ে রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ব্যবহৃত মালামাল, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত যন্ত্রাংশ (ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে), কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং জ্বালানি তেলের দাম বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
রেলওয়ে জানায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আয় করেছে। বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির আয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, বিগত অর্থবছরের তুলনায় এ বছর রেলওয়ে ২২১ কোটি টাকা বেশি আয় করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময়োপযোগী উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার ফলে এই আয় বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। চলতি বছরে রেলওয়ের সবচেয়ে বেশি আয় হয়েছে যাত্রী খাত থেকে।
যাত্রী খাতে বিগত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৫৬ কোটি টাকা বেশি আয় হয়েছে। তবে ইঞ্জিনের সংকটের কারণে মালামাল পরিবহন খাতে আয় কমেছে ৮ দশমিক ৩৪ কোটি টাকা।
অন্যদিকে, এ বছর ভূ-সম্পত্তি খাত থেকে ৩ কোটি টাকা এবং অপটিক্যাল ফাইবার লিজ দেওয়া বাবদ ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা বেশি আয় হয়েছে। বিপরীতে, পরিবহন ও বাণিজ্যিক (ভেন্ডিং লাইসেন্স ও বিবিধ আয়) খাতে আয় কমেছে প্রায় ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
রেলওয়ের পরিচালন ব্যয় অর্থাৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন, রেলপথ ও রোলিং স্টক রক্ষণাবেক্ষণসহ মোট ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা। ফলে ব্যয় ও আয়ের অনুপাত (রেশিও) দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯১, যা গত বছর ছিল ২ দশমিক শূন্য ৯। অর্থাৎ, রেলওয়ের আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছে।
তবে বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রতি বছর পেনশন খাতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে থাকে, যা প্রকৃত পরিচালন ব্যয় হিসেবে গণ্য করা সমীচীন নয়। এই পেনশন ব্যয় বাদ দিলে অপারেটিং রেশিও বা ব্যয় ও আয়ের অনুপাত দাঁড়ায় ১ দশমিক ৪৩। অর্থাৎ, পেনশন ব্যয় ব্যতীত রেলওয়ে তার আয়ের চেয়ে ৪৩ শতাংশ বেশি ব্যয় করেছে।


