খুলনায় নিজের মেয়ে নির্জনা (১৬) হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন বাবা আকাশ। রোববার খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১-এর বিচারক মো. আসাদুর জামান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার একটি বাজারের দোকান থেকে র্যাব ও খুলনা সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এর আগে, নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাও মেয়ে হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও খুলনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম বলেন, শনিবার গ্রেপ্তারের পর আকাশকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তিনি হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। রোববার সকালে স্বেচ্ছায় আদালতে জবানবন্দি দিতে চাইলে দুপুরের পর তাকে আদালতে নেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৮ জুলাই সকাল ১০টার কিছুক্ষণ পর স্বামী রনির সঙ্গে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নগরীর বসুপাড়া বাঁশতলা এলাকার বাড়ি থেকে বের হন নির্জনা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে রাস্তা থেকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন।
পুলিশ আরও জানায়, ওই দিন বিকালে মা আরিফা ইয়াসমিন সীমার সঙ্গে নির্জনার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নির্জনা মায়ের গায়ে হাত তোলেন এবং পরে তার গলা চেপে ধরেন। এ সময় বাবা আকাশ কাঠের চেলা দিয়ে শাসন করতে গেলে সেটি নির্জনার মাথায় লাগে। পরে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন তারা।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে আকাশ কালো রঙের লুঙ্গি দিয়ে মরদেহ বেঁধে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে দুইতলা থেকে নিচে নামান। কয়েকবার চেষ্টা করে মোটরসাইকেলে মরদেহ তোলেন। পরে মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন স্থানে ঘোরার পর শহরতলীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি নির্জন সড়কে মরদেহ ফেলে দেন। বাড়ি ফিরে রক্তের দাগ মুছে ফেলেন। রাতে দুজনই কান্নাকাটি করেন এবং পরদিন সকালে পালিয়ে যান।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না। পিবিআই ও সিআইডিও প্রথমে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। পরে ঘটনার দিন রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরদেহের ছবি প্রকাশ করা হলে পরদিন বিকালে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।
তিনি আরও বলেন, তদন্তের সময় মা-বাবার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি। পরে বিভিন্ন উপায়ে নির্জনার মা সীমাকে থানায় আনা হয়। প্রথমে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছু বলতে রাজি না হলেও পরে ঘটনার বিস্তারিত জানান।
ওসি আরও বলেন, ঘটনার ছয় দিন পর আকাশের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পরে ঘটনার ১০ দিন পর ডুমুরিয়া উপজেলার একটি বাজারের চায়ের দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


