শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে অব্যাহতি দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
রোববার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক হাসিবুর রহমান এবং সহদপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে আবাসিক হলের ক্যান্টিনের খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধর করা হয়। ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে ওই ঘটনা ঘটে।
আহত খাইরুল খন্দকার সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার পর তাকে সিলেট নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয় বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান।
ঘটনার পর শনিবার গভীর রাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম তাদের সঙ্গে আলোচনা করে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
খাইরুলের অভিযোগ, শাহপরান হলের ক্যানটিনে নিম্নমানের খাবার ও পচা মাছ পরিবেশনের বিষয়ে তিনি হলের ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করেছিলেন। পরে ওই পোস্ট নিয়ে তাকে বিভিন্ন সময় কথা বলতে ডাকা হয়। শনিবার রাতে আবারও খাবারের মান নিয়ে আপত্তি তোলার পর প্রধান ফটকের সামনে হাসিবুর রহমান ও তারেক রহমান তার সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
তবে, এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তারেক। তিনি বলেন, ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে খাইরুল অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে হাসিবুর রহমানও আহত হন এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও চশমা ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে দাবি করেন তিনি।
শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ইফতেখার আহমদ বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ শাবিপ্রবি প্রশাসন আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করে। শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার বিষয়টি তদন্ত করা হবে।


