আগামী ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আসন নিয়ে ‘ন্যায্য সমঝোতা’চেয়ে আলটিমেটাম দিয়েছে বিএনপির মিত্ররা। নইলে বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নতুন নির্বাচনী জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে ২৯টি দল।
আসন ভাগাভাগি নিয়ে দূরত্বের জেরে বৈঠক করে বিএনপিকে এমন বার্তা দিয়েছে দলগুলো। বুধবার বিকালে রাজধানীর পল্টনে নাগরিক ঐক্যের কার্যালয়ে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে থেকে বিএনপিকে ওই বার্তা দেয়া হয়।
বৈঠকে ৫ দলীয় জোটের গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, নেজামে ইসলামী পার্টি ও গণফোরামসহ ২৯ দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন।
রাতে বৈঠক শেষে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ও ন্যাশনাল পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন ‘আমরা ২৯ দল বৈঠক করেছি। সেখান থেকে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা সাইফুল হক বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে ফোন দিয়ে বলেছেন, ‘দুই দিনের মধ্যে নায্যতার ভিত্তিতে আসন সমঝোতা না করলে আমরা বিকল্প জোট করব।’
বৈঠকে গণতন্ত্র মঞ্চের নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, সাইফুল হক, জোনায়েদ সাকিসহ ৫ দলের শীর্ষ নেতারা, ১২ দলীয় জোটের প্রধান জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার ও সমন্বয়ক জাতীয় দলের অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণফোরাম নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নেজামে ইসলামী দলের আশরাফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
১২-দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এহসানুল হুদা টাইমসকে বলেছেন, ‘জোট বা দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে বিএনপির অবমূল্যায়ন ও অবিচার নিয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেকে ব্যাপক ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও দেখিয়েছেন। আমরা জোটের নেতৃত্ব দেয়া বিএনপির কাছে ন্যায্যতা ভিত্তিতে মূল্যায়ন চেয়েছি। একেবারে শেষ সময়ে এসে দীর্ঘদিনের দুঃসময়ের সঙ্গীদের সঙ্গে কোন আলোচনা ছাড়াই বিএনপি এমন করবে ভবতেও কষ্ট হয়।’
বৈঠকে দলগুলোর শীর্ষ নেতারা বলেছেন, বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত যেখানে বন্ধু বাড়ালেও বিএনপি মিত্রদের দূরে ঠেলে দিচ্ছে। দলটির হঠাৎ পরিবর্তন নিয়েও বৈঠকে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়।
আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি দুই দফায় ২৭২ আসনে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে দলটি। এখনো কাঙ্ক্ষিত আসন পায়নি মিত্ররা। এখন ফাঁকা রয়েছে আরও ২৮টি আসন। বিএনপি থেকে বলা হয়েছে, এই ফাঁকা আসনগুলোর বেশিরভাগেই মূলত শরিকরাই নির্বাচন করবেন। তারপরও অনেক আসনে নিজ দলীয় প্রার্থী দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও গুঞ্জন রয়েছে।


