ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জারি করা ৮২ ঘণ্টার ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় কার্যত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে কক্সবাজার। নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে কোনো ব্যক্তি নিজ এলাকার বাইরে অবস্থান করতে পারবেন না। যার সরাসরি ও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে পর্যটননির্ভর এই শহরে। হোটেল-মোটেল থেকে শুরু করে সমুদ্রসৈকত; সবখানেই নেমে এসেছে স্থবিরতা।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম নির্বাচন কমিশন জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই নির্বাচন কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতে পর্যটন এলাকার সব হোটেল-মোটেলকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে কোনো পর্যটকের কাছে হোটেল-মোটেলের কক্ষ ভাড়া দেওয়া যাবে না।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবণী, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টসহ প্রধান পর্যটনকেন্দ্রগুলো ছিল প্রায় ফাঁকা। বছরের অধিকাংশ সময় পর্যটকের ভিড় ও কোলাহলে মুখর থাকা সৈকতে নেমে এসেছে নীরবতা। সৈকতে যাদের দেখা গেছে, তাদের বেশির ভাগই স্থানীয় বাসিন্দা।

কক্সবাজারের খুরুশকুল ইউনিয়নের বাসিন্দা শাহেদুল ইসলাম জানান, সাধারণ সময়ে সৈকতে পা রাখার জায়গা থাকে না। তবে এখন সৈকত দেখে মনে হচ্ছে যেন অন্য কোনো জায়গা।
এ সময় কলাতলী পয়েন্টে কয়েকজন কলেজশিক্ষার্থীর উপস্থিতি দেখা যায়। জয়ন্তী দাশ নামে এক শিক্ষার্থী জানান, বছরের বেশির ভাগ সময় সৈকতজুড়ে মানুষের কোলাহল থাকে। নির্বাচনের কারণে সৈকত এখন প্রায় জনশূন্য। এমন নিরিবিলি পরিবেশ খুব কমই দেখা যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই পরিবেশ উপভোগ করতেই আমরা এসেছি।’
এদিকে হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারির পর থেকেই বুকিং বাতিল হতে শুরু করেছে। এতে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে পর্যটননির্ভর এই শহর। একই সংকটে পড়েছেন পরিবহন খাত, রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী, বিচ-সংলগ্ন দোকানদার ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও।


