চাঁদপুর মোহনার সংকট

চাঁদপুর মোহনার সংকট
ছবি: মো: জুমেন খান/টাইমস
Advertisement
Advertisement

পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া—এই তিন নদীর মোহনা ‘মোলহেড’-এর জন্য চাঁদপুরকে সবাই “ইলিশের বাড়ি” হিসেবে চেনে। কিন্তু নদীজুড়ে ক্ষতিকর ‘চায়না দুয়ারি’ জালের ব্যাপক ব্যবহারে এই অঞ্চলে এখন মারাত্মক পরিবেশগত সংকট দেখা দিয়েছে।

পরিবেশবিদ ও স্থানীয়দের মতে, এসব মিহি জালের ফাঁদে নদীর জলজ জীববৈচিত্র বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে। পোনা মাছ, শামুক, কাঁকড়া থেকে শুরু করে দরকারী জলজ পোকা—সবই এতে আটকে সাফ হয়ে যাচ্ছে। এমনকি যে জাটকা বা ছোট ইলিশ বাঁচাতে সরকার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে, তাও বাদ পড়ছে না এই ক্ষতিকর জাল থেকে।

একসময় এই নদীতে রুই, কাতলা, শিং, মাগুরসহ হরেক রকমের দেশীয় ছোট মাছ, কাঁকড়া ও শামুক অঢেল পাওয়া যেত। এসব প্রাণী নদীর পানি পরিষ্কার রাখতে এবং প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখতে দারুণ ভূমিকা রাখত। পাশাপাশি হাজার হাজার নিবন্ধিত জেলে পরিবারও এর ওপর নির্ভর করে চলত। কিন্তু চায়না দুয়ারির দাপটে সেই পুরো ব্যবস্থাটাই এখন ধ্বংসের মুখে।

প্লাস্টিকের তৈরি এই জাল পচে না। ফলে মাছের নতুন করে বংশবৃদ্ধির কোনো সুযোগই থাকে না। এমনকি ডিম ও রেনু পোনা বড় হওয়ার আগেই জালে ধরা পড়ছে। এ ছাড়া যেখানে-সেখানে জাল ফেলার কারণে নদীর পানিপ্রবাহ আটকে যাচ্ছে, তলে পলি জমছে এবং পানিতে অক্সিজেনের সংকট তৈরি হচ্ছে।

আরও পড়ুন

চাঁদপুরের সাধারণ বাসিন্দারা জানান, নদীতে এখন আগের মতো আর মাছের দেখা মিলছে না।  কমছে নদীর জীববৈচিত্র্যও। মিষ্টি পানির কাঁকড়া আর শামুক ইদানীং চোখেই পড়ে না। আর নদীর পরিবেশ ভালো রাখার জন্য যেসব জলজ পোকা দরকার, সেগুলোর সংখ্যাও হু হু করে কমছে।

পরিবেশ সচেতন কর্মীরা সতর্ক করে বলেছেন, এখনই যদি এই জাল আটকানো না যায়, তবে অনেক দেশীয় মাছ চিরতরে হারিয়ে যাবে। আর এর প্রভাব শুধু নদীতেই আটকে থাকবে না; ধাক্কা সামলাতে হবে স্থানীয় কৃষি, জেলেদের রুটি-রুজি এবং পুরো জেলার খাদ্য সুরক্ষাকেও।

পরিস্থিতি সামলাতে পরিবেশবাদীরা অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা চান মৎস্য আইনের কড়া প্রয়োগ, তিন নদীর মোহনায় চায়না দুয়ারি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা এবং নদীকূলের মানুষকে সচেতন করতে জোর প্রচার চালানো হোক।

চাঁদপুরের নদীগুলো কেবল ইলিশের ভাণ্ডার নয়, এগুলো আস্ত একটা জীবন্ত প্রাণব্যবস্থা। যদি এই নদীর বৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যায়, তবে চাঁদপুর কেবল একটি মাছই হারাবে না—হারিয়ে যাবে জেলার ভবিষ্যৎও।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad