বিচার বিভাগের যথাযথ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠা করতে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি হয়েছে। এর ফলে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পুরোপুরি পৃথক হলো। এখন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সার্বিক নিয়ন্ত্রণ প্রধান বিচারপতির হাতে ন্যস্ত থাকবে। এই সচিবালয়ের প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের সচিব।
প্রশ্ন উঠেছে, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কাজ কী হবে? এই সচিবালয় কীভাবে, কী কী কাজ করবে; যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সমান্তরাল হিসেবে বিবেচিত হবে?
এই প্রশ্নের জবাব দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫। অধ্যাদেশের ৫ (১) ধারায় বিস্তারিত বলা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, অন্তত ১৮টি কাজ করবে নতুন সৃষ্ট সচিবালয়।
যেমন, দেশের বিচার প্রশাসন পরিচালনায় সুপ্রিম কোর্টকে সহায়তার লক্ষ্যে অধস্তন আদালত ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক ও সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়। অধস্তন আদালতের প্রতিষ্ঠা বা বিলোপ, সংখ্যা, গঠন ও এখতিয়ারও নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি অধস্তন আদালত ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের বিচারক, বা ক্ষেত্রমত, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কাজের শর্তাবলি নির্ধারণ, নিয়োগ সচিবালয় নিশ্চিত করবে।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পদসৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে পদের বিলোপ, বিন্যাস, নিয়োগ, কাজের শর্তাবলি নির্ধারণ, পদায়ন, বদলি, শৃঙ্খলা, ছুটি, প্রশাসন ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ও দেখবে।
সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রি, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের পদসৃষ্টি, বিলোপ ও বিন্যাস করবে সচিবালয়।
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রি ও প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণ করবে, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে হালনাগাদ করবে।
অধস্তন আদালত, সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রি এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়-সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণের পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে হালনাগাদের বিষয়টিও দেখবে সচিবালয়।
অধস্তন আদালতের পদসৃষ্টি সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে সংবিধানের ১১৫ অনুচ্ছেদের অধীনে প্রণীত বিধিমালায় বর্ণিত কমিটিকে সচিবালয় প্রয়োজনীয় সাচিবিক ও অন্যান্য সহায়তা দেবে।
বিচারিক কাজে নিয়োজিত সার্ভিস সদস্যদের পদায়ন, পদোন্নতি, বদলি, শৃঙ্খলা ও ছুটি সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় সচিবালয়ের হাতে থাকবে। এই সচিবালয় বিচারিক কাজে নিয়োজিত সার্ভিস সদস্যদের পদায়ন ও বদলি সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করবে।
অধস্তন আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়-সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বাজেট ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্ট, অধস্তন আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়-সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন বা কারিগরি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়নও করবে সচিবালয়।
প্রধান বিচারপতির এবং সুপ্রিম কোর্ট, অধস্তন আদালত, প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও এসব আদালতের বিচারকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও এখন সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের হাতে।
সার্ভিস সদস্যদের এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের শিক্ষা, বৃত্তি, প্রশিক্ষণ ও এ সংক্রান্ত অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ে এই সচিবালয় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
বিচারিক সেবার মানোন্নয়ন ও বিচার বিভাগের সংস্কারে প্রয়োজনীয় গবেষণা পরিচালনা, প্রকাশনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
অন্যান্য দেশের সাংবিধানিক আদালত, বিচার বিভাগ, বিচার বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সংস্থা এবং আইনের শাসন ও মানবাধিকার-সম্পর্কিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সাথে বিচার বিভাগীয় কার্যক্রমে সহায়ক চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ইত্যাদি সম্পাদন ও বাস্তবায়নও সচিবালয়ের ওপর ন্যস্ত। সার্ভিস সংক্রান্ত বিধিমালাসহ প্রাসঙ্গিক কোনো আইনের অধীনে অর্পিত যে কোনো দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণের লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতি কর্তৃক আরোপিত দায়িত্ব পালন করবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়।
বিচার বিভাগের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়কে এই অধ্যাদেশের অধীনে কার্যাবলি সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ।


