যশোরে এক চিকিৎসকের ক্রেডিট কার্ডের তথ্য হাতিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে ৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় সংঘবদ্ধ চক্রের মূল হোতাসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার বিকালে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে সিআইডির যশোর জেলা ইউনিটের একটি দল।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার উত্তর রামনগনের শাহীনুর রহমান শাহিন ও বাহাদুরপুর বাজার এলাকার সঞ্জয় গুপ্তা। শাহীনুর রহমান একটি মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার এবং সঞ্জয় গুপ্তা একই প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড প্রমোটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সিআইডি জানায়, ২০২২ সালের ২১ ডিসেম্বর যশোর শহরের মুজিব সড়কের একটি শোরুম থেকে পোশাক কেনার সময় ওই চিকিৎসক ক্রেডিট কার্ড দিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন। লেনদেন সম্পন্ন করতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে।
এর কয়েক দিন পর ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ওই চিকিৎসককে ফোন করে এক ব্যক্তি নিজেকে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের (ইবিএল) কর্মকর্তা পরিচয় দেন।
ক্রেডিট কার্ড সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে জানিয়ে সেটি সচল করার কথা বলে তার কাছ থেকে কার্ড-সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য নেওয়া হয়।
পরে ওই রাতেই সাতটি পৃথক লেনদেনের মাধ্যমে চিকিৎসকের অ্যাকাউন্ট থেকে ৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা ছয়টি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) নম্বরে স্থানান্তর করে নেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চিকিৎসক ২০২৩ সালের ২১ মার্চ যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
সিআইডির তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধান, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আগে গ্রেপ্তার হওয়া আসামিদের জবানবন্দির মাধ্যমে চক্রটির অন্য সদস্যদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যায়।
আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া এক আসামির জবানবন্দি ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে শাহীনুর রহমান শাহিন ও সঞ্জয় গুপ্তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়।
তদন্তে জানা যায়, শাহীনুর রহমান একটি মোবাইল অপারেটর প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার অধীনস্থ ব্র্যান্ড প্রমোটারদের মাধ্যমে বিভিন্ন গ্রাহকের ফিঙ্গারপ্রিন্ট একাধিকবার সংগ্রহ করতেন। পরে অতিরিক্ত ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবহার করে নিবন্ধিত সিমগুলো তার কাছে হস্তান্তর করা হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
এসব সিম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা হতো। পরে সিম ও বিকাশ অ্যাকাউন্টগুলো কুরিয়ারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠিয়ে বিকাশ, ক্রেডিট কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক প্রতারণায় ব্যবহার করা হতো বলে জানিয়েছে সিআইডি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীনুর রহমান শাহিন ও সঞ্জয় গুপ্তা মামলার ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।


