ঢাকার শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে যৌথ বাহিনীর অপারেশনের সব ফুটেজ মামলার তদন্তে সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন ইসলামিক টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস এসকান্দার।
তিনি বলেন, ‘এ ঘটনার তদন্তে সহযোগিতা করব। আমাদের কাছে যে আলামত আছে, তা দেব। প্রয়োজন হলে এই মামলায় সাক্ষ্য দেব। সেদিন ঘটনাস্থলে ক্যামেরাম্যান, নিউজ টিম ছিল।’
সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক টিভির বার্তা প্রধান রফিক উজ্জামান।
ইতোমধ্যে শাপলা চত্বরের ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে প্রসিকিউশন। ২০১৩ সালের ৫ মে রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভি বন্ধ করে দেয় বিটিআরসি।
তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীরের লিখিত আদেশে এটি বন্ধ করা হয় বলে দাবি করেন অনেকে।
ইসলামিক টিভির সম্প্রচার বন্ধের বিষয়ে শামস এসকান্দার বলেন, ‘খালেদা জিয়ার পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় শেখ হাসিনার ক্ষোভ ছিল। ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও রাজনৈতিক কারণে ইসলামিক টিভি বন্ধ করা হয়েছিল। এ ছাড়া কোনো কারণ দেখি না।’
‘ইসলামিক টিভি বন্ধের ক্ষেত্রে তখন অভিযোগ করা হয়েছিল যে, আমরা উসকানিমূলকভাবে ঘটনাটিকে দেখাচ্ছিলাম। কিন্তু একটা লাইভ ইভেন্টকে কীভাবে সেভাবে উপস্থাপন করা যায়’, প্রশ্ন তোলেন শামস।
তিনি আরও বলেন, ‘এটা তো সম্ভব না। একটা ন্যাচারাল লাইভ ঘটনা ঘটছে, সেটাকে ক্যামেরায় দেখানো হচ্ছে, এখানে তো উসকানি দেওয়ার কোনো বিষয় নেই।’
প্রসিকিউশন সূত্রমতে, শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ ও কুমিল্লায় একজন। এ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হবে। মামলাটি তদন্তের পর্যায়ে রয়েছে।


