ঝিনাইদহে ১৪ বছরের এতিম শিশু মিশকাতের জীবিকার একমাত্র সম্বল ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনায় ইজিবাইক ছিনতাই চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঝিনাইদহ সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও সদর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে লুন্ঠিত ইজিবাইক, ছিনতাই হওয়া মোবাইল ফোনসহ বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে জেলা পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি সেল সূত্রে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার আকাশ সর্দার ওরফে ডাকাত আকাশ, কুষ্টিয়া সদর এলাকা থেকে জিয়ারুল ওরফে জিয়া (৪৪), সিরাজুল ইসলাম (৪০) ও আখতার মোল্লা (৪০) কুষ্টিয়ার রাশিদুল ইসলাম ওরফে বল্টু (৫০), লিটন আলী (৫০), সজীব শেখ (২৪), মাসুদ রানা (৩২), ইসলাম খান ওরফে তাহের (৬৫) ও আশরাফুল ইসলাম (৪২)।
অভিযানের সময় লুন্ঠিত ইজিবাইক, আটটি মোবাইল ফোন ও ইজিবাইক বিক্রির নগদ তিন হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ১৪ বছরের শিশু সন্তান মিশকাত একমাত্র ইজিবাইকটি চালিয়ে সংসারের ভরণপোষণ করতো। গত ১৯ জুলাই বিকাল ৫টার দিকে কোটচাঁদপুর রেলগেট এলাকা থেকে যাত্রীবেশে চারজন ব্যক্তি মিশকাতের ইজিবাইকে ওঠেন। পরবর্তীতে ঝিনাইদহ সদর থানাধীন বংকিরা মাঠ নামক ফাঁকা এলাকায় নিয়ে জোরপূর্বক তার মুখ ও হাত-পা বেঁধে ইজিবাইক ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ওই ঘটনায় ভিকটিমের চাচা বাদী হয়ে ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশের তদন্ত দল চুয়াডাঙ্গা সদর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত আকাশ সর্দার ওরফে ডাকাত আকাশ, কুষ্টিয়া সদর এলাকা থেকে জিয়ারুল ওরফে জিয়া, সিরাজুল ও আখতারকে গ্রেপ্তার করে।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মালামাল কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িত থাকায় কুষ্টিয়া সদর, কুমারখালী ও মিরপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাশিদুল ওরফে বল্টু, লিটন, সজীব, মাসুদ, ইসলাম ওরফে তাহের ও আশরাফুল নামে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এ সময় লুন্ঠিত ইজিবাইক, মোবাইল ফোন ও ইজিবাইক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা ও পাবনা জেলাজুড়ে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি ও দস্যুতা পরিচালনা করে আসছিল।
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মামলা রয়েছে।


