ফরিদপুরে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক তিনটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক স্কুলছাত্র, এক প্রবীণ ও এক বৃদ্ধাসহ মোট তিনজন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন। সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ফরিদপুর সদর ও মধুখালী উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
তথ্য অনুযায়ী, বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ফরিদপুর-মাগুরা মহাসড়কের সদর উপজেলার কানাইপুর আখ সেন্টারের সামনে। মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে কানাইপুর উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র মো. সায়াদ (১৭) নিহত হয়। সে সদর উপজেলার হাট গোবিন্দপুর এলাকার মিজানুর রহমান মামুনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্কুল ছুটির পর তিন শিক্ষার্থী একটি মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিল। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশা ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেলের তিন আরোহী ও অটোরিকশা চালক গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সায়াদকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তৌহিদ হাসানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অপর শিক্ষার্থী শাওন ও অটোরিকশাচালক মফিজ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এর আগে, সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর জেলা কারাগারের সামনে মুজিব সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হন আনোয়ার মিয়া (৬০)। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তার মৃত্যু হয়। নিহত আনোয়ার মিয়া আলফাডাঙ্গা উপজেলার চানড়া গ্রামের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে ধাক্কা দিলে তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
একই দিন বিকাল পৌনে ৫টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মধুখালী উপজেলার মাঝকান্দি এলাকায় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় আমেনা বেগম (৭০) নামের এক বৃদ্ধা নিহত হন। তিনি মাঝকান্দি গ্রামের মৃত এলাহি শেখের স্ত্রী।
পুলিশ জানিয়েছে, রাস্তার পাশ থেকে শুকনা গাছের ডাল সংগ্রহ করে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির একটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।
করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির হাসান জানান, দুটি দুর্ঘটনার বিষয়ে আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


