অবশেষে প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পেলেন ঝিনাইদহের মিশন আচার্য। এর আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও বসতভিটা ও স্থানীয় ঠিকানা না থাকার অজুহাতে নিয়োগপত্র আটকে যায় তার। এ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছিলেন মিশন আচার্য ও তার পরিবার। পরে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান ও শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনের হস্তক্ষেপে মিশন আচার্যের নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতার অবসান ঘটে।
সোমবার বিকালে ঝিনাইদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইটে মিশন আচার্যের নিয়োগ চূড়ান্ত করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, মিশন আচার্যের নামে নিয়োগপত্র ইস্যু করা হয়েছে এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে শিক্ষক হিসেবে তার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আজকের পর থেকে মিশন আচার্যের নামের পাশে যুক্ত হলো ‘শিক্ষক’ পরিচয়।
শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর মিশন আচার্য বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁনের ওপর গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এ ছাড়া গণমাধ্যমের প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা আমার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। যে অভিজ্ঞতার মধ্যদিয়ে শিক্ষক হিসেবে আমার কর্মজীবন শুরু হলো, তা আমি মনে রাখব। দেশ ও জাতি গড়ার মহান দায়িত্ব পালনে আমি আমার মেধার সর্বোচ্চ ব্যবহার করব। সমাজের জন্য, রাষ্টের জন্য ও মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী অত্যন্ত দ্রুত ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিষয়টি সমাধান করেছেন। আজ মিশন আচার্যের হাতে নিয়োগপত্র পৌঁছানোয় আমরা আনন্দিত। এই ঘটনা প্রমাণ করে, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে গণমাধ্যমের সোচ্চার ভূমিকা এবং সরকারের ইতিবাচক মনোভাব থাকলে যেকোনো প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন সম্ভব। আমি আশা করি, শিক্ষক মিশন আচার্য সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে হাজারো শিশু-কিশোরের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেবেন।’
প্রসঙ্গত, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগ মিশন আচার্যের অনুকূলে নিয়োগপত্র ইস্যু করতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।


