রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় ‘সমকামিতার’ অভিযোগ তুলে ৬ থেকে ৭ জনকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ‘আজাদি আন্দোলন’ ব্যানারে মিছিলকারীরা জাতীয় জাদুঘরের সামনে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। মারধরের পাশাপাশি সঙ্গে থাকা নারীদের তারা হয়রানি করে বলেও অভিযোগ করা হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় জাদুঘরের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, একদল লোক কয়েকজনকে ঘিরে মারধর করছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই তাদের ওপর হামলা করা হয়। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা নারীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
ভুক্তভোগীদের একজন কাজী তাহসিন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রায় ২০ জনের একটি দল শাহবাগ এলাকায় সমকামিতাবিরোধী স্লোগান দিয়ে মিছিল বের করে। আমরা পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলাম। হঠাৎ তারা এসে আমাদের ঘিরে ফেলে। আমরা সেখান থেকে চলে যেতে চাইলে তারা নারীদের সঙ্গে অশালীন আচরণ শুরু করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তাদের বারবার অনুরোধ করেছি যেন কোনো প্রকার আঘাত করা না হয়। কিন্তু তারপরেও তারা মাথা লক্ষ্য করে মারতে থেকে।’
তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা সমকামী ও ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দিচ্ছিল। ঘটনাস্থলে থাকা একজন ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তিকেও মারধর করে মাথায় আঘাত করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
আরেক ভুক্তভোগী নির্ণয় এইচ ইসলাম বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি দেখতে গিয়েছিলেন। হামলার আগে সেখানে তারা একটি সমাবেশ করছিল। পরে তারা আমাদের ওপর চড়াও হয়।’
তিনি বলেন, ‘আমি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা নারীদের দিকে তেড়ে আসে আর আমাদের নির্বিচারে মারধর করে।’
এর আগে সন্ধ্যায় ‘আজাদি আন্দোলন’ ব্যানারে একদল ‘সমকামীদের দ্বারা আক্রান্ত হাদি চত্বর (শাহবাগ) মুক্ত করতে অবস্থান কর্মসূচী’ পালন করে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার বিষয়ে তারা এখনো বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করতে পারেননি।
তিনি বলেন, ‘আহতদের চিকিৎসা নিতে বলা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’ শুক্রবার রাত পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো মামলা দায়ের হয়নি বলেও জানান তিনি।


