মুশফিকুর রহিমের শততম টেস্ট ম্যাচ, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে উপলক্ষ্যটা বিশাল। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আড়ম্বরে শুরু হওয়া মিরপুর টেস্ট মুশফিকও রাঙালেন ১১তম ব্যাটার হিসেবে শততম টেস্টে সেঞ্চুরি করে। শনিবার তার সামনে সুযোগ ছিল পরের ইনিংসেও সেঞ্চুরি ছোঁয়ার। তবে ৫০৯ রানের লিড নিয়ে নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করলে ৫৩ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়তে হয় এই ডানহাতি ব্যাটারকে। পরের ইনিংসে সেঞ্চুরি করলে ছুঁয়ে ফেলতেন রিকি পন্টিংকে, যিনি একমাত্র ব্যাটার হিসেবে শততম টেস্টে করেছেন দুই সেঞ্চুরি।
মুশফিক অনন্য এই রেকর্ড ছুঁতে না পারলেও তাইজুল ইসলাম চড়ে বসেছেন টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী বোলারদের তালিকার চূড়ায়। আইরিশদের বিপক্ষে প্রথম ইনিংস ৪ উইকেট নিয়ে সাকিব আল হাসানের সাথে হয়েছিলেন দেশের যুগ্ম সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। তাকে ছাড়িয়ে যেতে দ্বিতীয় ইনিংসে খুব বেশি সময় নেননি এই বাঁহাতি স্পিনার। ম্যাচের চতুর্থ ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে আইরিশ অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবার্নিকে ফিরিয়েছেন এলবিডব্লিউ করে। জোরালো আবেদনের মুখে আউট দেন অন ফিল্ড আম্পায়ার, সেই সিদ্ধান্তকে রিভিউ করে চ্যালেঞ্জ জানালেও হয়নি শেষ রক্ষা।
এই সাফল্যের পর বিসিবির ফটোগ্রাফার রতন গোমেজের তোলা ছবিটারও রয়েছে একটা প্রতীকী আবেদন। শততম ম্যাচ খেলতে নেমে সেঞ্চুরি আর ফিফটি করা দ্বিতীয় ব্যাটার মুশফিক তুলে ধরেছেন তাইজুলকে, তাদের ঘিরে আছেন সবাই। ঠিক যেন ম্যাচের চিত্র। মিরপুর টেস্টে দলকে টেনেছেন তারা দুজন। মুমিনুলের সাথে-মুশফিকের বড় জুটিতে পেয়েছে বড় লিড, আইরিশদের ওপর রান পাহাড় ঠেলে দিয়ে চেপে ধরা বোলিং করেছেন তাইজুল।
সাকিবকে টপকে যাওয়ার দিনে তাইজুলের দ্বিতীয় শিকার পল স্টার্লিং। তার চতুর্থ ওভারে ফ্লাইটেড এক ডেলিভারিতে এই শর্ট লেগে মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। তাইজুলের উইকেট সংখ্যা এখন ২৪৮*।
সাকিব ২৪৬ উইকেট নিয়েছেন ১২১ ইনিংসে। তাইজুল সেই রেকর্ড ছুঁয়েছেন ১০১ ইনিংসে। আর ছাড়িয়ে গেলেন ১০২ ইনিংসে। ৫৬ ম্যাচের ৯৮ ইনিংসে মেহেদী হাসান মিরাজের শিকার ২০৯ উইকেট। চতুর্থ অবস্থানে থাকা সাবেক বাঁহাতি স্পিনার মোহাম্মদ রফিক ৩৩ ম্যাচে নেন ১০০ উইকেট। শীর্ষ পাঁচ বোলারের মধ্যে একমাত্র পেসার মাশরাফি বিন মুর্তজা। ৩৬ ম্যাচে ৭৮ উইকেট বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়কের।
চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশন পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডের সংগ্রহ ৮৮/৩। জয় থেকে আরো ৪২১ রান দূরে আইরিশরা।


