ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতার লভ্যাংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা (উয়েফা)। একই সঙ্গে সংস্থাটির সদস্য দেশগুলো ফিফার বিশ্বকাপসহ সমস্ত প্রতিযোগিতা বর্জনের ব্যাপারে একমত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সংস্থাটির ৫৫টি সদস্য দেশের এক জরুরি অনলাইন সভা শেষে উয়েফা জানায়, ‘উয়েফা ও এর অধীনস্থ জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলো ফিফার কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না।’
এক বিবৃতিতে ইউয়েফা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ‘কিছু বিষয় বিক্রির জন্য নয়। ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলেরই সম্পদ, এবং সবসময় তাই থাকবে। যতদিন ইউরোপের কণ্ঠস্বর থাকবে, বিশ্বকাপ কখনো বিক্রির জন্য উন্মুক্ত হবে না।’
ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাঝামাঝির মধ্যে তার এই প্রস্তাব গ্রহণের বিনিময়ে বিশ্ব ফুটবলের ২১১টি সদস্য দেশকে ২ কোটি মার্কিন ডলার করে দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। সেই প্রস্তাব প্রতিহত করতেই উয়েফা এই কৌশলগত জরুরি সভা ডাকে।
মঙ্গলবার প্রকাশ পাওয়া ইনফান্তিনোর একটি গোপন প্রস্তাবে দেখা যায়, ফিফা তার বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করতে চায়, যার ২০ শতাংশের মালিকানা থাকবে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের হাতে।
এর মূল বিনিয়োগকারী হিসেবে উঠে এসেছে নিউ ইয়র্কের একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠা করা।
২০১৬ সালে ফিফার শীর্ষ পদে নির্বাচিত হওয়ার আগে ইনফান্তিনো দীর্ঘ দিন উয়েফায় দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সংস্থাটির জেনারেল সেক্রেটারি ছিলেন।
সাবেক সহকর্মীর এমন পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইউয়েফা বলেছে, ‘এটি কেবল নেতৃত্বের চরম ব্যর্থতাই নয়, বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক হিসেবে ফিফার দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার একটি বড় উদাহরণ।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘যেই মুহূর্তে বাহ্যিক বিনিয়োগকারীরা ফিফা টুর্নামেন্টের মালিকানায় অংশীদার হবে, ফুটবল চিরতরে বদলে যাবে। তখন বাণিজ্যিক মুনাফা অর্জনই প্রধান বাধ্যবাধকতা হয়ে দাঁড়াবে এবং বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশার চাপ প্রতিদিন অনুভব করতে হবে।’
তবে ইনফান্তিনো এই বেসরকারি বিনিয়োগের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছেন, এর মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নে অর্থের জোয়ার আসবে। উল্লেখ্য, ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের অধিকাংশই তাদের কার্যক্রম চালাতে সরাসরি ফিফার অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল।
জরুরি সেই সভায় উয়েফার প্রায় ৪০টি সদস্য দেশের প্রতিনিধিরা কথা বলেন। ফিফা তাদের নিজস্ব বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ তহবিল থেকে অতিরিক্ত উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন না করে কেন প্রাইভেট ইকুইটির দিকে ঝুঁকছে, তা নিয়ে প্রতিনিধিরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সূচি অনুযায়ী ফিফার পরবর্তী টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ইউরোপের মাটিতেই-আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে পোল্যান্ডে শুরু হতে যাচ্ছে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ।


