কক্সবাজারের উখিয়ার দুটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে টানা ভারী বৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও বৈরী আবহাওয়ায় পৃথক ঘটনায় দুই রোহিঙ্গা শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একজন পাহাড়ধসে, অন্যজন পানির স্রোতে ভেসে প্রাণ হারায়।
বুধবার দুপুর ২টার দিকে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫-এর ডি-৭ ব্লকে পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট পানির প্রবল স্রোতে ভেসে যায় মোহাম্মদ আরশেদ (৪)। সে ক্যাম্পটির বাসিন্দা আব্দুল জলিলের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে আরশেদ অসাবধানতাবশত স্রোতে পড়ে যায়। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে কাস্টমস-সংলগ্ন উখিয়ার ঘাট খাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
একই দিন দুপুরে উখিয়ার তাজনিমারখোলা ১৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নুনুশি (৭) নামে আরেক শিশুর মৃত্যু হয়। সে জামাত হোসেনের ছেলে।
১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক (অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন বলেন, ‘পাহাড়ি ঢলের স্রোতে শিশুটি ভেসে যায়। স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কাস্টমস-সংলগ্ন উখিয়ার ঘাট খাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দেয়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি বর্ষা মৌসুমে উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অন্তত ১৭টিতে ছোট-বড় পাহাড়ধস হয়েছে। বেড়েছে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও। টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ের ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ায় প্রায়ই পাহাড়ধস ও বানের পানিতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প-সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, গত জুলাই থেকে আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত পাহাড়ধস ও বানের স্রোতে ভেসে অন্তত ২১ জন রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুর মৃত্যু হয়েছে।


